
জয়পুর, ১৯ মে (হি.স.) : রাজস্থানে ক্রমশ ভয়াবহ আকার নিচ্ছে গরম। দিনের পাশাপাশি রাতেও মিলছে না স্বস্তি। প্রবল তাপপ্রবাহে রাজ্যের অধিকাংশ জেলাই কার্যত অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির মুখে পড়েছে। মঙ্গলবার পাঁচ জেলায় কমলা সতর্কতা এবং আরও পাঁচ জেলায় হলুদ সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর। আগামী তিন থেকে চার দিন তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি বজায় থাকতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যের নয়টি শহরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪৫ থেকে ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রেকর্ড হয়েছে। চিতোরগড় ও পিলানিতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪৬.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্যদিকে, সিকার ও উদয়পুরে মরশুমের উষ্ণতম দিন রেকর্ড হয়েছে।
প্রচণ্ড গরমের জেরে রাজ্যে পানীয় জলের সঙ্কটও ক্রমশ বাড়ছে। রাজ্যের ৩১৫টি শহর ও জনপদের মধ্যে ২০৫ জায়গায় জলের সমস্যা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে ৩০টি শহর ও জনপদে তিন দিন অন্তর এবং ২৪টি এলাকায় চার দিন অন্তর জল সরবরাহ করা হচ্ছে।
জয়পুর ও আজমেরের মতো বড় শহরেও বহু এলাকায় পর্যাপ্ত জল পৌঁছচ্ছে না। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিটি জেলা প্রশাসককে এক কোটি টাকা করে জরুরি তহবিল বরাদ্দ করেছে রাজ্য সরকার। জলদায় দফতরের পক্ষ থেকে গোটা রাজ্যে ৫৭৫টি বিশেষ দল মোতায়েন করা হয়েছে।
মাউন্ট আবু বাদে রাজস্থানের প্রায় সব শহরেই সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির ওপরে পৌঁছেছে। পশ্চিম রাজস্থানের শ্রীগঙ্গানগর, বিকানের, ফলৌদি, যোধপুর, জয়সলমের ও বারমেরে তাপপ্রবাহের প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা গিয়েছে।
রাজধানী জয়পুরে সোমবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪৩.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই মরশুমে চতুর্থবার সেখানে পারদ ৪৩ ডিগ্রি ছাড়াল। রাতেও গরমের তীব্রতা কমেনি। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৩০.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
উদয়পুরেও এই মরশুমের উষ্ণতম দিন রেকর্ড হয়েছে। সেখানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা পৌঁছেছে ৪৩.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। তীব্র গরমের কারণে দুপুরের পর রাস্তাঘাট কার্যত ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। পর্যটন শিল্পেও তার প্রভাব পড়েছে।
সিকার, কোটা, আলওয়ার-সহ একাধিক জেলায় দিনের বেলায় লু বইছে। কোটা শহরে তাপমাত্রা ছিল ৪৫.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত প্রায় ২০ দিন ধরে সেখানে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির ওপরে রয়েছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আপাতত বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই।
প্রবল গরমের জেরে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন ক্ষেত্রেও প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। দুপুরের পর বহু শহরের বাজার প্রায় ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। রাতে বাড়তে থাকা উষ্ণতা ও আর্দ্রতাও জনজীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য