
তেলিয়ামুড়া (ত্রিপুরা), ১৯ মে (হি.স.) : সড়কপথের বেহাল অবস্থার জেরে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় খোয়াই জেলার তেলিয়ামুড়া মহকুমাজুড়ে তীব্র পেট্রোল, ডিজেল ও রান্নার গ্যাসের সঙ্কট দেখা দিয়েছে বলে একাংশ ভোক্তাদের দাবি। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অসাধু চক্র প্রকাশ্যে কালোবাজারি চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে দিনমজুর ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলি।
মঙ্গলবার ভোর থেকেই তেলিয়ামুড়া শহরের গ্যাস এজেন্সি এবং মহারানীপুর এলাকার পেট্রোল পাম্পের সামনে শত শত মানুষকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। কেউ মোটরবাইকে, কেউ অটোরিকশা নিয়ে, আবার কেউ গ্যাস সিলিন্ডার সংগ্রহের আশায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেন। কাঠফাটা রোদ উপেক্ষা করেও অনেককে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাতে হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জাতীয় সড়কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বেহাল দশার কারণে নিয়মিত জ্বালানি পরিবহণ ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে তেলিয়ামুড়া মহকুমার অধিকাংশ পেট্রোল পাম্পে মজুত প্রায় ফুরিয়ে গেছে। দু’দিন পর মহারানীপুর পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি পৌঁছাতেই হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। সকাল থেকেই কয়েকশো যানবাহন লাইনে দাঁড়িয়ে পড়ে।
অন্যদিকে, জ্বালানি সঙ্কটকে কেন্দ্র করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে কালোবাজারি চক্র। অভিযোগ, শহরের বিভিন্ন এলাকায় বোতলবন্দি পেট্রোল লিটারপ্রতি ২০০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি করা হচ্ছে। যেখানে সরকারি নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী পেট্রোলের দাম প্রায় ১০২টাকার কাছাকাছি। প্রকাশ্যে এই অবৈধ বেচাকেনা চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনও অভিযান বা কঠোর পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ।
গ্যাস এজেন্সিতেও একই চিত্র। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা গ্রাহকদের অনেককে জানানো হয়, ইন্টারনেট সংযোগ না থাকায় গ্যাস সরবরাহে বিলম্ব হচ্ছে। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেকে খালি হাতে বাড়ি ফিরতে বাধ্য হন।
সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন দিনমজুর ও শ্রমজীবী মানুষ। কাজ ফেলে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকায় তাঁদের দৈনিক আয় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ চালাতে গিয়ে অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়ছেন তাঁরা।
স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, পরিস্থিতি মোকাবিলায় মহকুমা প্রশাসন, খাদ্য দফতর এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তৎপরতা পর্যাপ্ত নয়। কালোবাজারি রোধে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযানের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। পাশাপাশি দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ারও দাবি উঠেছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ