
গুয়াহাটি, ২ মে (হি.স.) : গুয়াহাটি মহানগরীর মঠঘরিয়ায় সংঘটিত দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত ‘মূল অভিযুক্ত’ শামিম আহমেদকে ১০ দিনের জন্য বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়েছে আদালত। আগামী ১২ মে পর্যন্ত বিচারবিভাগীয় হেফাজতে থাকতে হবে শামিমকে।
মঠঘরিয়ায় সংঘটিত দুর্ঘটনার সময় শামিম ঘাতক গাড়িটির চালকের আসনে ছিলেন। আজ শনিবার তাকে মুখ্য বিচারবিভাগীয় (সিজেএম) আদালতে পেশ করা হয়। আদালতে হাজির করার পর শুনানি শেষে তাকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।
এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, গত রবিবার ২৬ এপ্রিল ভোর প্রায় ৪-টা ২০ মিনিটে সংঘটিত দুর্ঘটনায় তিন তরতাজা তরুণীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গীতানগর দিক থেকে আগত এএস ০১ জিপি ০৫৬২ নম্বরের দ্রুতগতির মারুতি সুইফট গাড়ি মঠঘরিয়ায় গেট হাসপাতালের কাছে দণ্ডায়মান একটি ট্রাকে প্রচণ্ড ধাক্কা মারে। সুইফট গাড়িতে করে লখরা থেকে আসছিলেন তিন তরুণী।
ভয়াবহ দুর্ঘটনায় দুই তরুণীর ঘটনাস্থলে এবং একজনের গৌহাটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনায় নিহত তিন তরুণীর নাম পূজা সাহা (২৬), আকাঙ্ক্ষা শইকিয়া (২৩) এবং আরমিনা আহমেদ। দুর্ঘটনায় নিহত আকাঙ্ক্ষা শইকিয়া এবং পূজা সাহা গুয়াহাটির রয়্যাল গ্লোবাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাডমিশন বিভাগে কর্মরত ছিলেন।
আকাঙ্ক্ষার বাড়ি চড়াইদেও জেলার সাপেখাতিতে। পূজা সাহার মূল বাড়ি গোয়ালপাড়ার কৃষ্ণাইয়ের জ্যোতিনগরে। আরমিনা আহমেদের বাড়ি বরপেটায়।
এদিকে ওইদিন দুর্ঘটনা সংঘটিত করে গাড়ির চালক শামিম আহমেদ পালিয়ে গা ঢাকা দিয়েছিল। একটি ট্রাভেল এজেন্সি থেকে গাড়িটি ভাড়া নিয়েছিলেন শামিম।
দুর্ঘটনার পর শামিম নিজের রক্তমাখা শার্ট ও পরিহিত পোশাক পরিবর্তন করে একটি স্থানে ফেলে রেখে শিলঙে পালিয়ে যান। সেখানে তিনি দাড়ি ও চুল কেটে নিজের চেহারা বদলানোর চেষ্টা করেন যাতে কেউ তাকে চিনতে না পারে। পরে পালিয়ে যান ডিব্রুগড়ের লাহোয়ালে। লাহোয়াল থেকে ঘটনার পরের দিন মঙ্গলবার শামিম আহমেদকে পুলিশ গ্রেফতার করে।
শুক্রবার সকালে এই ঘটনা নতুন মোড় নেয়। ওইদিন মঠঘরিয়ার পাহাড়ে শামিমের রক্তমাখা পোশাক উদ্ধার করে মহানগর পুলিশ। শামিমকে হাতকড়া পরিয়ে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে তালাশি চালানো হয়। দুর্ঘটনার পর তিনি নিজের পোশাক বদলে একটি নালায় ফেলে দিয়েছিলেন। শুক্রবার নুনমাটি পুলিশ দুর্ঘটনা সময় তার পরিহিত সেই পোশাক উদ্ধার করে।
পুলিশের হাতে শামিম আহমেদকে সম্পর্কে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এসেছে। তার বিরুদ্ধে ‘এস্কর্ট সার্ভিস’ চালানোর সন্দেহ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে অবশ্য জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তদন্তের পর আরও বিস্ফোরক তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে, ডিসিপি জয়ন্ত সারথি বরা জানান, ২৬ এপ্রিল ভোরে যে ট্রাকের সঙ্গে তিন তরুণীবাহী মারুতি সুইফট-এর সংঘর্ষ হয়েছিল, সেই ট্রাক-চালককেও পুলিশ গ্রেফতার করেছে। ধৃত ট্রাক-টালকের নাম সুভাষ পাটর।
তিনি জানান. ওই দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২৮১, ১০৬(১), ২৮৫, ৩২৪ (৫), ২৩৮ (সি) এবং ৩(৫) ধারায় ৬৬/২০২৬ নম্বরে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া মোটর ভেহিকলস অ্যাক্ট-এর ধারা ১৮৭ প্রয়োগ করা হয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস