
আগরতলা, ২ মে (হি.স.) : ত্রিপুরায় কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ জোরদার করতে শনিবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। বৈঠকে বিভিন্ন দফতরে মোট ১১২টি শূন্যপদে নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১০৭টি পদে সরাসরি নিয়োগ এবং ৫টি পদে পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হবে।
এদিন সচিবালয়ের প্রেস কনফারেন্স হলে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে পর্যটনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তগুলি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। তিনি জানান, অর্থ দফতরের অধীন ডাইরেক্টোরেট অব ট্রেজারিস অ্যান্ড অ্যাকাউন্টসে ৫০টি সিনিয়র কম্পিউটার অ্যাসিস্টেন্ট (গ্রুপ-সি) পদে নিয়োগ করা হবে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়া টিপিএসসি-র মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।
এছাড়াও, সাধারণ প্রশাসন দফতরের প্রিন্টিং ও স্টেশনারি শাখায় ৪৩টি টেকনিক্যাল পদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই পদগুলির জন্য আবেদনকারীদের ন্যূনতম মাধ্যমিক উত্তীর্ণ হওয়ার পাশাপাশি আইটিআই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হতে হবে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়া জেআরবিটি-র মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে।
নির্বাচন দফতরেও জনবল বৃদ্ধি করা হচ্ছে। সেখানে এলডিসি (গ্রুপ-সি) পদে ৬ জন এবং গ্রুপ-ডি পদে ৪ জন কর্মী নিয়োগ করা হবে। পাশাপাশি এলডিসি (গ্রুপ-সি) পদে ৫ জনকে পদোন্নতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়াও জেআরবিটি-র মাধ্যমে পরিচালিত হবে।
স্বরাষ্ট্র দফতরের অধীন কারা বিভাগের অ্যালোপ্যাথি শাখায় ৪ জন ফার্মাসিস্ট নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।
কর্মসংস্থানের পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করতে মন্ত্রিসভায় একটি নতুন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প চালুর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। ‘চিফ মিনিস্টার্স অ্যাসিস্টেন্স টু আনমেরিড অ্যান্ড ডিপেন্ডেন্ট ডটার/সন’ নামে এই প্রকল্পের আওতায় প্যারামিলিটারি বাহিনীতে কর্মরত অবস্থায় শহিদ হওয়া রাজ্যের সৈনিকদের পরিবারকে সহায়তা প্রদান করা হবে। এই প্রকল্প অনুযায়ী, শহিদ জওয়ানদের ১৮ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী অবিবাহিত ও নির্ভরশীল একজন সন্তান—পুত্র বা কন্যা—মাসিক ২ হাজার টাকা ভাতা পাবে। পরিবারে একাধিক সন্তান থাকলেও কেবলমাত্র একজনই এই সুবিধা পাবে।
এছাড়াও, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে শহিদ হওয়া রাজ্যের সৈনিকদের জীবিত ১২ জন স্ত্রীর জন্য প্রদত্ত ভাতা বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতদিন প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হলেও, তা বৃদ্ধি করে ১৫ হাজার টাকা করা হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, এই সমস্ত সিদ্ধান্ত রাজ্যের প্রশাসনিক পরিকাঠামোকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের আর্থ-সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ