
ঔরাইয়া, ২ মে (হি.স.) : উত্তর প্রদেশের ঔরাইয়া জেলায় জেলায় মহিলাদের চাকরি ও স্বনির্ভরতার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা চালানো এক চক্রের পর্দাফাঁস করল সাইবার থানার পুলিশ। ঘটনায় দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
শনিবার পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘প্রধানমন্ত্রী মহিলা রোজগার যোজনা’র নামে সেলাই কেন্দ্র খোলার সুযোগ ও চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে গ্রামীণ এলাকার মহিলাদের টার্গেট করা হত। কানপুর রেঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক ও উপ-মহাপরিদর্শকের নির্দেশে চালানো বিশেষ অভিযানে এই সাফল্য আসে। ঔরাইয়ার পুলিশ সুপার অভিষেক ভারতীর তত্ত্বাবধানে এবং সাইবার শাখার নজরদারিতে এই চক্রের হদিস মেলে।
ঘটনার সূত্রপাত অজিতমল থানা এলাকার পাড়রিয়া উঁচা গ্রামের বাসিন্দা বন্দনার অভিযোগের ভিত্তিতে। তাঁর দাবি, এক মহিলা ও এক পুরুষ ‘সরকারি প্রকল্পে’ সেলাই কেন্দ্র খোলার প্রলোভন দেখিয়ে তাঁর কাছ থেকে টাকা নিয়ে প্রতারণা করে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
তদন্তে প্রযুক্তিগত ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে কাকোর বাম্বা এলাকা থেকে অভিযুক্ত সৌরভ ওরফে টিটু (মৈনপুরী) এবং সুনীতা (বিধুনা, ঔরাইয়া)-কে গ্রেফতার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে ধৃতরা জানায়, তারা বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে নিজেদের সরকারি প্রকল্পের প্রতিনিধি পরিচয় দিত এবং সেলাই কেন্দ্র খোলার নামে প্রত্যেক মহিলার কাছ থেকে ২৫০ টাকা করে নিত। এরপর আধার কার্ড-সহ নথি সংগ্রহ করে ওই মহিলাদের নামে ঋণ অনুমোদন করিয়ে নিত। সেই ঋণের টাকায় কেনা সামগ্রী—যেমন ই-স্কুটি, ইনভার্টার—তারা নিজেদের দখলে রাখত।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, এইভাবে প্রায় ১০ থেকে ১২ লক্ষ টাকা প্রতারণা করা হয়েছে। অভিযুক্তদের কাছ থেকে ইনভার্টার, ব্যাটারি, ই-স্কুটি, মোবাইল ফোন, ১০০টিরও বেশি আধার কার্ডের ফটোকপি, স্ট্যাম্প পেপার ও জাল নথি উদ্ধার হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট স্থগিত করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্তদের টাকা ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার অভিষেক ভারতী।
হিন্দুস্থান সমাচার / সুনন্দা দাস