
আগরতলা, ২ মে (হি.স.) : ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাঙ্কের ব্যবসা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ব্যাঙ্কের মোট ব্যবসা ৯.৪৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে ডিপোজিট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৮৮৯ কোটি টাকা এবং নেট প্রফিট হয়েছে ১৮৪.৮৪ কোটি টাকা। শনিবার আগরতলায় সাংবাদিক সম্মেলনে এই তথ্য জানান ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাঙ্কের চেয়ারম্যান সত্যেন্দ্র সিং।
তিনি জানান, ১৯৭৬ সালে মাত্র চারটি শাখা নিয়ে যাত্রা শুরু করা ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাঙ্ক বর্তমানে রাজ্যের অন্যতম শক্তিশালী আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এখন ব্যাঙ্কের মোট শাখা সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫০টি, যা রাজ্যের অন্যান্য ব্যাংকের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। স্বচ্ছতা ও উন্নত পরিষেবার ফলে গ্রাহক সংখ্যাও দ্রুত বেড়েছে। বর্তমানে ব্যাঙ্কের মোট গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ২৭ লক্ষ, যার মধ্যে ২০ লক্ষেরও বেশি গ্রাহকের সেভিংস অ্যাকাউন্ট রয়েছে।
চেয়ারম্যান আরও বলেন, ২০২২ সালে তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ব্যাঙ্কের আর্থিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে যেখানে ব্যাঙ্কের নেট লাভ ছিল মাত্র ৩ কোটি টাকা, সেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১০৪ কোটি টাকায়। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে সেই প্রবৃদ্ধি আরও জোরদার হয়ে ১৮৪.৮৪ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
তিনি জানান, ব্যাঙ্কের সিডি (ক্রেডিট-ডিপোজিট) রেশিওও উন্নতির পথে রয়েছে এবং বর্তমানে তা ৪১.৬২ শতাংশে পৌঁছেছে। তবে গত কয়েক বছরে রাজ্যের সামগ্রিক সিডি রেশিও নিম্নমুখী প্রবণতা দেখিয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে রাজ্যের সিডি রেশিও ছিল প্রায় ৫০ শতাংশ। তুলনামূলকভাবে দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এই হার ১০০ শতাংশেরও বেশি।
সত্যেন্দ্র সিং বলেন, বর্তমান সময়ে বিভিন্ন আর্থিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি ত্রিপুরা। সেই প্রেক্ষাপটে রাজ্যের সিডি রেশিও নিম্নমুখী থাকাটা উদ্বেগজনক হলেও ব্যাঙ্ক গ্রাহক পরিষেবা ও ঋণ বিতরণ বাড়াতে নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আশা ব্যক্ত করে বলেন, আগামী দিনে প্রযুক্তিনির্ভর পরিষেবা, গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাঙ্ক আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ