
আসনসোল, ২৫ মে (হি.স.) : কুলটি থানা এলাকার অন্তর্গত চৌরঙ্গি মোড়ে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কে রবিবার গভীর রাতে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। তিনটি গাড়ির মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষে একটি গাড়ির চালকের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এক মহিলা এবং দুই শিশু গুরুতর জেরে আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর ঘটনস্থলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, অত্যন্ত দ্রুত গতিতে আসা একটি বোলেরো গাড়ি হঠাৎ সামনে থাকা একটি চারচাকা গাড়ির পিছনে সজোরে ধাক্কা মারে। ধাক্কাটি এতটাই জোরালো ছিল যে বোলেরো চালক গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং গাড়িটি রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি কন্টেনারে গিয়ে ধাক্কা মায়। এর ফলে তিনটি যানের মধ্যে এক মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে আসেন এবং উদ্ধারকাজ শুরু করেন। দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িগুলির ভেতরে বেশ কয়েকজন গুরুতরভাবে আটকে পড়েছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ এবং ট্রাফিক বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। আটকে থাকা ব্যক্তিদের বের করতে গ্যাস কাটারের সাহায্য নিতে হয়। প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে প্রচেষ্টার পর আহতদের উদ্ধার করে আসানসোল জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়, যেখানে বর্তমানে তাঁরা চিকিৎসাধীন।
চিকিৎসকদের বক্তব্য অনুযায়ী, আহত মহিলা ও দুই শিশুর অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক। অন্যদিকে, চালকের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে নিহতের পরিজনেরা হাসপাতালে পৌঁছালে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে।
এই দুর্ঘটনার জেরে জাতীয় সড়কে প্রায় দেড় ঘণ্টা যান চলাচল ব্যাহত হয়। রাস্তার দু'পাশে গাড়ির দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়। পরে পুলিশ দুর্ঘটনাগ্রস্ত যানগুলিকে রাস্তা থেকে সরিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, চৌরঙ্গি মোড় এলাকায় দ্রুত গতি ও অসতর্কভাবে গাড়ি চালানোর কারণে প্রায়শই এই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। তাঁরা প্রশাসনের কাছে হাইওয়েতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা, সতর্কতামূলক বোর্ড লাগানো এবং নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি