
আগরতলা, ২৫ মে (হি.স.) : জনজাতি গরিমা উৎসব উদযাপন উপলক্ষ্যে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলায় ব্যাপক আকারে পরিচালিত হচ্ছে ‘ধরতি আবা জনভাগীদারি অভিযান’। জেলার ৩৫টি জনজাতি অধ্যুষিত এলাকায় ইতিমধ্যেই ৬৮টি ক্যাম্প সংগঠিত হয়েছে। এসব ক্যাম্পের মাধ্যমে পশ্চিম জেলার ১১ হাজারেরও বেশি জনজাতি জনগোষ্ঠীর মানুষকে বিভিন্ন প্রশাসনিক পরিষেবা প্রদান করা হয়েছে। আগামী আরও দুই সপ্তাহ ধরে এই অভিযান চলবে বলে জানিয়েছেন পশ্চিম জেলার জেলাশাসক ডাঃ বিশাল কুমার।
রবিবার জেলাশাসকের কনফারেন্স হলে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, দেশের বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল জনজাতি সম্প্রদায়। তাঁদের জীবনধারা, লোকঐতিহ্য এবং সংগ্রামী চেতনা দেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলকে সমৃদ্ধ করেছে। জাতি গঠনে জনজাতি সম্প্রদায়ের এই অসামান্য অবদানকে সম্মান জানাতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ‘জনজাতি গরিমা উৎসব’-এর আয়োজন করা হয়েছে। সেই উৎসবেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে শুরু হয়েছে ‘ধরতি আবা জনভাগীদারি অভিযান’।
জেলাশাসক জানান, রাজ্যের আট জেলাতেই এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। পশ্চিম জেলার বিভিন্ন প্রত্যন্ত ও জনজাতি অধ্যুষিত এলাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরাসরি ক্যাম্পের মাধ্যমে পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। গত ১৯ মে থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি ইতিমধ্যেই ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ২৫ মে পর্যন্ত ৬৮টি ক্যাম্পে ১১ হাজারের বেশি মানুষ বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেছেন।
তিনি আরও জানান, এই ক্যাম্পগুলিতে আধার কার্ড তৈরি ও সংশোধন, এসটি সার্টিফিকেট প্রদান, পিআরটিসি, বন অধিকার আইনের আওতায় জমির পাট্টা বিতরণ, আয়ুষ্মান ভারত হেলথ কার্ড, পেনশন যোজনা, প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ যোজনা, পিএম মাতৃ বন্দনা যোজনাসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পরিষেবা প্রদান করা হচ্ছে।
ডাঃ বিশাল কুমার বলেন, প্রশাসনের লক্ষ্য হল জনজাতি জনগোষ্ঠীর ঘরে ঘরে সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া এবং তাঁদের বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা। তিনি জনজাতি অধ্যুষিত এলাকার বাসিন্দাদের অধিক সংখ্যায় এই ক্যাম্পগুলিতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
প্রশাসনের দাবি, এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ মানুষ সহজে সরকারি সুবিধা পাচ্ছেন এবং বিভিন্ন নথিপত্র সংক্রান্ত সমস্যার দ্রুত সমাধান হচ্ছে। আগামী দিনগুলিতে আরও বেশি সংখ্যক ক্যাম্প আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ