
ধর্মনগর (ত্রিপুরা), ২৫ মে (হি.স.) : পেট্রোপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, নিট পরীক্ষার পেপার লিক সহ একাধিক ইস্যুকে সামনে রেখে সোমবার ধর্মনগরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করল কংগ্রেস। বিকেলে শহরে আয়োজিত এই বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন উত্তর জেলা কংগ্রেস সভাপতি দ্বিগ্বিজয় চক্রবর্তী, পিসিসি সদস্য চয়ন ভট্টাচার্য সহ জেলা ও ব্লকের একাধিক কংগ্রেস নেতা-কর্মী।
বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ধর্মনগর শহরে কংগ্রেস কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ পরিলক্ষিত হয়। দলীয় পতাকা, প্ল্যাকার্ড এবং বিভিন্ন স্লোগানে সরব হয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান তাঁরা। সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জেলা কংগ্রেস সভাপতি দ্বিগ্বিজয় চক্রবর্তী কেন্দ্রীয় সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় আসার আগে দেশের সাধারণ মানুষের কাছে বহু প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর সেই প্রতিশ্রুতিগুলি পূরণ না করে সাধারণ মানুষের উপর ঋণের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, ২০১৪ সালে দেশের ঋণের পরিমাণ ছিল ৫৪ লক্ষ কোটি টাকা, যা বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩৮ লক্ষ কোটি টাকায়।
এছাড়াও তিনি অভিযোগ করেন, দেশে লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। পেট্রোল ও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দামও বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি গত ১২ বছরে ৭৫ বার বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করে তিনি বলেন, এর ফলে দেশের যুব সমাজের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
দ্বিগ্বিজয় চক্রবর্তী আরও বলেন, বর্তমান সরকার কর্পোরেট স্বার্থ রক্ষাতেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, অথচ খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ হচ্ছে। তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানান।
সমাবেশে উপস্থিত অন্যান্য কংগ্রেস নেতারাও মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব এবং দুর্নীতির অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন। জেলা কংগ্রেস নেতৃত্ব জানায়, সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা এবং সরকারের ব্যর্থতার চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরতে আগামী দিনে জেলার প্রতিটি ব্লক ও বুথ স্তরে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে।
এদিনের বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে ধর্মনগর শহরে রাজনৈতিক উত্তাপও লক্ষ্য করা যায়। কংগ্রেস কর্মীরা স্লোগান দিতে দিতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিবাদ মিছিলও করেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ