
উদয়পুর (ত্রিপুরা), ২৫ মে (হি.স.) : দিনদুপুরে ব্যবসায়ীর উপর নৃশংস হামলা ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে গোমতী জেলার উদয়পুর মহকুমার খিলপাড়া এলাকায়। সোমবার দুপুর ২টা নাগাদ প্রবল বৃষ্টির মধ্যেই সংঘটিত হয় এই দুঃসাহসিক ঘটনা। গুরুতর আহত হন জীবন বৈদ্য (৭৪) নামে জনৈক ব্যবসায়ী। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জানা গেছে, খিলপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পুরাতন লোহা-লঙ্কড় ও ভাঙারি সামগ্রীর ব্যবসা করেন জীবন বৈদ্য। সোমবার দুপুরে তিনি নিজের দোকানের ভেতরে বসে খাবার খাচ্ছিলেন। সেই সময় প্রবল বৃষ্টির সুযোগ নিয়ে এক দুষ্কৃতিকারী দোকানে ঢুকে পড়ে। আচমকাই দোকানে থাকা ভারী ওজন মাপার ভাটখারা দিয়ে জীবন বৈদ্যের মাথায় সজোরে আঘাত করা হয়। আকস্মিক হামলায় রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি।
অভিযোগ, হামলাকারী শুধু মাথায় আঘাত করেই থেমে থাকেনি। বৃদ্ধ ব্যবসায়ীর শরীরের বিভিন্ন অংশেও এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি সাহায্যের জন্য চিৎকার করলেও প্রবল বৃষ্টির কারণে আশেপাশে মানুষের আনাগোনা কম থাকায় দ্রুত কেউ এগিয়ে আসতে পারেননি।
এরপর দুষ্কৃতিকারী দোকানে থাকা আনুমানিক ২০ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ। কিছুক্ষণ পরে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় জীবন বৈদ্যকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকদের মতে, তার মাথায় ১০টিরও বেশি সেলাই দেওয়া হয়েছে এবং তিনি এখনও চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে আরকে পুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে এবং আশেপাশের এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
আহত জীবন বৈদ্য জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি সম্ভবত চোরাই চক্রের সঙ্গে জড়িত। তাঁর দাবি, এর আগেও ওই ব্যক্তি চুরি করা একটি পিতলের কলস বিক্রি করতে তাঁর দোকানে এসেছিল। কিন্তু সেটি চোরাই মাল বলে সন্দেহ হওয়ায় তিনি কিনতে অস্বীকার করেন। সেই ঘটনার জের ধরেই এই হামলা হয়ে থাকতে পারে বলে অনুমান তাঁর।
দিনদুপুরে বৃদ্ধ ব্যবসায়ীর উপর এমন নৃশংস হামলা ও প্রকাশ্যে ছিনতাইয়ের ঘটনায় এলাকাজুড়ে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা বৃদ্ধি পেলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট জোরদার করা হচ্ছে না। এই ঘটনার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার প্রশ্নও নতুন করে সামনে এসেছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ