
নয়াদিল্লি, ২৭ মে (হি.স.) : দেশে পেট্রোল ও ডিজেলের পর্যাপ্তেরও বেশি মজুত রয়েছে এবং গৃহস্থালি ও শিল্পক্ষেত্রের চাহিদা পূরণে কোনও সমস্যা নেই বলে জানাল কেন্দ্র সরকার। নাগরিকদের গুজবে কান না দিয়ে শুধুমাত্র সরকারি তথ্যের উপর ভরসা রাখার আবেদনও করা হয়েছে।
বুধবার কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের ২২টি চালু রিফাইনারির মোট বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ২৫৮১ লক্ষ টন। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হর্দীপ সিং পুরী সরকারি তেল বিপণন সংস্থা, বিভিন্ন রাজ্য সরকার এবং শিল্প সংস্থাগুলির সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় বজায় রাখছেন।
বুধবার পেট্রোলিয়াম সচিব বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্যসচিব, এফ. আই. সি. সি. আই এবং সি. আই. আই-এর প্রতিনিধিদের সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। সেই বৈঠকে স্পষ্ট হয়েছে, কোনও পেট্রোলিয়াম পণ্যের প্রকৃত ঘাটতি নেই।
মন্ত্রক জানিয়েছে, পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতির মধ্যেও সাধারণ গ্রাহকদের স্বস্তি দিতে আন্তর্জাতিক বাজারে দামের বৃদ্ধি পুরোপুরি খুচরো গ্রাহকদের উপর চাপানো হয়নি। এর ফলে সরকারি তেল বিপণন সংস্থাগুলি পেট্রোল, ডিজেল ও গৃহস্থালি এলপিজি বিক্রিতে প্রতিদিন প্রায় ৫৫০ কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়ছে।
সরকারের দাবি, কিছু শিল্প গ্রাহক পাইকারি কেনার বদলে খুচরো পাম্প থেকে জ্বালানি কিনছেন। এর ফলে স্থানীয় স্তরে চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গিয়ে কৃত্রিম ঘাটতির ধারণা তৈরি হচ্ছে। চলতি মাসে বেসরকারি সংস্থাগুলির ডিজেল বিক্রি প্রায় ৩৮ শতাংশ কমেছে, অন্যদিকে সরকারি খুচরো আউটলেটগুলিতে চাহিদা বেড়েছে।
কেন্দ্র সরকার রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করে মজুতদারি, কালোবাজারি ও বেআইনি মজুতের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে দেশে মোট পেট্রোলিয়াম ব্যবহারের পরিমাণ ছিল ২৪৩২ লক্ষ টন। একই সময়ে ৬১৫ লক্ষ টন পেট্রোলিয়াম পণ্য রফতানি করা হয়েছে। এর ফলে পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য রফতানিকারক দেশগুলির মধ্যে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য