
ছত্তরপুর, ২৭ মে (হি.স.) : আন্তর্জাতিক যোগ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে ২৫ দিনের কাউন্টডাউন কর্মসূচির সূচনা হল মধ্যপ্রদেশের বিশ্ববিখ্যাত পর্যটন ও সাংস্কৃতিক শহর খাজুরাহো থেকে। বুধবার আয়োজিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে যোগের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয় দেশজুড়ে। মধ্যপ্রদেশের বিভিন্ন আয়ুষ প্রতিষ্ঠান ভার্চুয়ালি এই অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিল।
অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় আয়ুষ প্রতিমন্ত্রী (স্বতন্ত্র দায়িত্বপ্রাপ্ত) তথা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী প্রতাপ রাও যাদব ঘোষণা করেন, আন্তর্জাতিক যোগ দিবস ২০২৬-এর মূল অনুষ্ঠান আগামী ২১ জুন পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় অনুষ্ঠিত হবে। তিনি জানান, এবারের থিম রাখা হয়েছে— “সুস্থ বার্ধক্যের জন্য যোগ”। এই থিমের মাধ্যমে শারীরিক সুস্থতা, মানসিক ভারসাম্য এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে যোগের গুরুত্ব তুলে ধরা হবে।
প্রতাপ রাও যাদব বলেন, ভারতীয় ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিক চেতনায় সমৃদ্ধ কলকাতা এবারের আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল অনুষ্ঠানের আয়োজক শহর হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তাঁর কথায়, “যোগ ভারতের প্রাচীন জ্ঞানচর্চার প্রতীক এবং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবনধারার অন্যতম ভিত্তি।”
তিনি আরও বলেন, খাজুরাহো তার সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের কারণে আন্তর্জাতিক যোগ ও ওয়েলনেস কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠার বিপুল সম্ভাবনা রাখে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাবনার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে আয়ুষ মন্ত্রক গ্রাম থেকে শহর, স্কুল থেকে অফিস— সর্বত্র যোগকে পৌঁছে দিতে কাজ করছে।
এই অনুষ্ঠানে ‘যোগ সঙ্গম পোর্টাল’ পুনরায় চালু করা হয় এবং বিভিন্ন রাজ্য ও প্রতিষ্ঠানে যোগ কেন্দ্র গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘যোগ পার্ক পোর্টাল’-এর উদ্বোধন করা হয়। পাশাপাশি নতুন ডিজাইনের যোগ টি-শার্টও প্রকাশ করা হয়। আয়ুষ মন্ত্রক জানায়, ‘যোগ ৩৬৫’ অভিযানের আওতায় আয়োজিত ১০০ দিনের বিনামূল্যের যোগ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে ইতিমধ্যেই দুই লক্ষেরও বেশি মানুষ অংশ নিয়ে ‘যোগ মিত্র’ শংসাপত্র পেয়েছেন।
মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ডঃ মোহন যাদব ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বলেন, খাজুরাহোর মতো ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্থানে এই আয়োজন হওয়া গোটা রাজ্যের কাছে গর্বের বিষয়। তাঁর মতে, “যোগ আজ শুধু শরীরচর্চা নয়, ‘ওয়ান আর্থ, ওয়ান হেলথ’-এর জীবনদর্শনের প্রতীক হয়ে উঠেছে।”
মধ্যপ্রদেশের আয়ুষমন্ত্রী ইন্দর সিং পরমার বলেন, যোগ ও আয়ুর্বেদ কেবল চিকিৎসা পদ্ধতি নয়, বরং ভারতের সমৃদ্ধ জীবনদর্শনের অংশ। শিক্ষা ও যোগ একসঙ্গে সুস্থ সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
সংস্কৃতি ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী ধর্মেন্দ্র সিং লোধী বলেন, এই কর্মসূচি ভারতের সাংস্কৃতিক চেতনা ও সভ্যতাগত মূল্যবোধকে তুলে ধরার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে সামগ্রিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি করবে।
খাজুরাহোর সাংসদ ভিডি শর্মা বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে যোগ আজ বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য ও ওয়েলনেস আন্দোলনে পরিণত হয়েছে এবং প্রায় ১৯০টি দেশে এর চর্চা হচ্ছে।
আয়ুষ মন্ত্রকের যুগ্মসচিব মোনালিসা দাস বর্তমান চাপপূর্ণ জীবনে যোগকে সহজ ও টেকসই স্বাস্থ্যপথ হিসেবে উল্লেখ করে নাগরিকদের ‘যোগ মিত্র’ হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি আগামী ১৪ জুন আয়োজিত গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড প্রচেষ্টায় অংশগ্রহণেরও আবেদন জানান।
পশ্চিম মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে যোগ সেশনের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনিক আধিকারিক, ছাত্রছাত্রী ও বহু সাধারণ মানুষ অংশ নিয়ে গণযোগাভ্যাসে সামিল হন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য