
ওয়াশিংটন, ২৭ মে (হি.স.) : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটন রিপাবলিকান প্রাইমারি নির্বাচনে বর্তমান সেনেটর জন কর্নিনকে পরাজিত করেছেন। মঙ্গলবার প্রকাশিত ফলাফলে এই জয়কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রত্যক্ষ সমর্থনের ফল বলেই মনে করা হচ্ছে। টেক্সাস থেকে মার্কিন সিনেট নির্বাচনে এবার রিপাবলিকান প্রার্থী হচ্ছেন কেন প্যাক্সটন।
জানা গেছে , মার্চ মাসের প্রথম দফার লড়াইয়ে জন কর্নিন সামান্য এগিয়ে ছিলেন। তবে শেষ মুহূর্তে ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমর্থন পেয়ে পরিস্থিতি বদলে দেন প্যাক্সটন। রিপাবলিকান মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ার পর এবার তাঁর লড়াই ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস টালারিকোর বিরুদ্ধে।
কেন প্যাক্সটনকে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ এবং কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত। তিনি জো বাইডেন প্রশাসনের একাধিক নীতির তীব্র বিরোধিতা করেছেন এবং বহু ক্ষেত্রে ফেডারেল সরকারের সিদ্ধান্ত আদালতে চ্যালেঞ্জ করেছেন। অভিবাসন, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং রিপাবলিকান দলের ঐতিহ্যবাহী নীতির জোরালো সমর্থক হিসেবেও পরিচিত তিনি।
তবে বিতর্কও কম নয়। প্যাক্সটনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, আর্থিক অনিয়ম এবং ব্যক্তিগত সম্পর্ক গোপন রাখতে ভুয়ো পরিচয় ও একাধিক মোবাইল ফোন ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি তাঁকে মহাভিযোগের মুখেও পড়তে হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক রাজনৈতিক, নাগরিক ও আর্থিক তদন্ত এখনও চলছে। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস টালারিকো ইতিমধ্যেই তাঁকে “আমেরিকার সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিকদের একজন” বলে কটাক্ষ করেছেন।
এতসব বিতর্ক সত্ত্বেও ট্রাম্পের অটুট সমর্থন এবং দক্ষিণপন্থী ভোটব্যাঙ্কের ভরসায় টেক্সাস রাজনীতিতে শক্তিশালী মুখ হয়ে উঠেছেন প্যাক্সটন। নির্বাচনী জয় উদ্যাপনে তিনি ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “ওয়াশিংটনের সবাই যখন তাঁকে আমাকে এবং টেক্সাসবাসীকে ছেড়ে দিতে বলছিল, তখনও তিনি কারও কথা শোনেননি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমাদের নেতা। রাজনীতিতে তাঁর সমর্থনই সবচেয়ে বড় ৌকে পরাজয়ের পর জন কর্নিন জানান, তিনি সাধারণ নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদেরই সমর্থন করবেন। চারবারের সেনেটর কর্নিন মার্চ মাসে ত্রিমুখী লড়াইয়ে সর্বাধিক ভোট পেয়েছিলেন। কিন্তু শেষপর্যন্ত ট্রাম্পের সমর্থনে পাল্লা ভারী হয়ে যায় প্যাক্সটনের দিকে।
প্রসঙ্গত, টেক্সাসে ১৯৯৪ সালের পর কোনও ডেমোক্র্যাট রাজ্যস্তরের নির্বাচনে জয় পাননি। ফলে আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের দাপট বজায় থাকবে বলেই রাজনৈতিক মহলের একাংশের অনুমান।
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য