
কাঠমান্ডু, ২৯ মে (হি.স.) :
মার্কিন উপ-বিদেশমন্ত্রী অ্যালিসন এম হুকার বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানালকের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। সেই সময় আমেরিকার তরফে নেপালকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়।
নেপালের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ফোনালাপে অ্যালিসন এম. হুকার বিদেশমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করায় শিশির খানালকে শুভেচ্ছা জানান। পাশাপাশি নেপাল সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা বজায় রাখতে আমেরিকা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
জবাবে বিদেশমন্ত্রী খানাল শুভেচ্ছাবার্তার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং নেপালের সার্বিক উন্নয়নে ধারাবাহিক সহযোগিতার জন্য মার্কিন সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
আলোচনায় শিশির খানাল নেপাল সরকারের অগ্রাধিকারের বিষয়গুলি তুলে ধরে জানান, সুশাসন, পরিকাঠামো, শক্তি, পর্যটন ও ডিজিটাল প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে অর্থনৈতিক উন্নয়নকে আরও গতিশীল করার দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
মার্কিন উপ-বিদেশমন্ত্রী নেপালের উন্নয়নমূলক পরিকল্পনার প্রশংসা করে জানান, এই প্রক্রিয়ায় আমেরিকা ভবিষ্যতেও সহযোগিতা চালিয়ে যাবে। কূটনৈতিক মহলের মতে, নেপালে আমেরিকার কৌশলগত ও উন্নয়নমূলক আগ্রহেরই ইঙ্গিত মিলেছে এই বার্তায়।
ফোনালাপে নেপাল ও আমেরিকার প্রায় আট দশকের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক মঞ্চে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে নেপালে আমেরিকার কূটনৈতিক তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আগামী সপ্তাহে মার্কিন বিদেশ দফতরের পাবলিক ডিপ্লোমেসি বিভাগের প্রধানের নেপাল সফরের কথাও জানা গিয়েছে।
এর আগে নেপালে নতুন সরকার গঠনের পর প্রথম বিদেশি প্রতিনিধি হিসেবে মার্কিন উপ-বিদেশমন্ত্রী সমীর পল কাপুর সফর করেন। পরে দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত এবং ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সর্গস্যান গোরেও নেপাল সফর করেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে নেপালে আমেরিকার বাড়তি কূটনৈতিক সক্রিয়তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য