
কাঠমান্ডু, ২৯ মে (হি.স.) : বিশেষ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুক্রবার নেপালে পালিত হল প্রজাতন্ত্র দিবস। তবে এবারের অনুষ্ঠান ঘিরে তৈরি হয়েছে বিশেষ তাৎপর্য। নেপালের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এই প্রথম প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে ভাষণ দিলেন না প্রধানমন্ত্রী।
এতদিন ধরে প্রজাতন্ত্র দিবসের মূল অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ দেওয়ারই রীতি ছিল। কিন্তু এবার প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতিকে অনুষ্ঠানে ভাষণ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানান। এই বিষয়ে রাষ্ট্রপতি ভবনেও চিঠি পাঠানো হয়েছিল।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতিই ভাষণ দেবেন। সেই নতুন ব্যবস্থার অংশ হিসেবেই এ বছর অনুষ্ঠানে দেশবাসীর উদ্দেশে ভাষণ দেন রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পৌডেল।
কাঠমান্ডুর টুন্ডিখেলে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্য, বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনীর শীর্ষ আধিকারিক, কূটনৈতিক প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। অনুষ্ঠানে নেপাল সেনা, নেপাল পুলিশ ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর পক্ষ থেকে বিশেষ কুচকাওয়াজ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও পরিবেশিত হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রজাতন্ত্র দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বদলে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেপালের সাংবিধানিক ও আনুষ্ঠানিক রীতিতে একটি বড় পরিবর্তন। রাষ্ট্রপ্রধানের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তোলার প্রচেষ্টা হিসেবেও এই সিদ্ধান্তকে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে রাজতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে নেপালকে ফেডারেল গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করা হয়। তারপর থেকে এতদিন পর্যন্ত প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীরাই মূল ভাষণ দিয়ে এসেছেন। সেই প্রথা বদলে এ বছরের সিদ্ধান্তকে ঐতিহাসিক বলেই মনে করা হচ্ছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য