আমেরিকাতে কি চেনা ছন্দে ফিরতে পারবে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা?
কলকাতা, ২৯ মে(হি.স.): আমেরিকাতে কি পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা মাঠের সবুজ ঘাসে আঁকতে পারবে ছন্দ। হ্যাঁ,সেই ছন্দের নাম ‘জোগা বোনিতো’। এটা তো আমরা সবাই জানি। কিন্তু গত এক দশক ধরে সেই ছন্দ যেন হারিয়ে গেছে ব্রাজিলিয়ানদের পা থেকে। এই ব্রাজিলিয়ানদের
আমেরিকাতে কি চেনা ছন্দে ফিরতে পারবে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা?


কলকাতা, ২৯ মে(হি.স.): আমেরিকাতে কি পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা মাঠের সবুজ ঘাসে আঁকতে পারবে ছন্দ। হ্যাঁ,সেই ছন্দের নাম ‘জোগা বোনিতো’। এটা তো আমরা সবাই জানি। কিন্তু গত এক দশক ধরে সেই ছন্দ যেন হারিয়ে গেছে ব্রাজিলিয়ানদের পা থেকে। এই ব্রাজিলিয়ানদের পা এখন আর তেমন কথা বলে না। ২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে কোটি কোটি ব্রাজিলিয়ান ভক্ত এবার অধীর আগ্রহে চেয়ে আছে ব্রাজিলিয়ানদের পায়ের সেই ছন্দ দেখার জন্য। নেইমার, ভিনিসিয়ুসরা কি হারিয়ে যাওয়া সেই ব্রাজিলকে জাগিয়ে তুলতে পারবেন। আর কয়েকটা সপ্তাহ পরেই তা জানা যাবে।

২০১৪ সালে নিজেদের মাটিতে জার্মানির কাছে সেই ৭-১ গোলের হারের পর থেকে তাদের ফুটবলীয় আত্মবিশ্বাস যেন হারিয়ে গেছে। এরপর থেকে প্রতিটি বিশ্বকাপে কোয়ার্টার-ফাইনাল থেকেই ব্রাজিল হারিয়ে যাচ্ছে। এটা বিশ্বের কোটি কোটি ভক্তদের জন্য দারুন একটা হতাশার। তবু তারা তাদের চিরচেনা নান্দনিক ফুটবলের সেই সৃষ্টিকর্তাকে ভুলে যায়নি। প্রতিটি বিশ্বকাপ আসে ব্রাজিলকে নিয়ে তারা নানা স্বপ্ন দেখে। এবারও দেখছে।

ব্রাজিলের এই সংকটময় সময়ে সে দেশের ফেডারেশন দলের হাল ধরতে ইতালিয়ান কিংবদন্তি কোচ কার্লো আনচেলত্তি হাতে ব্রাজিলকে তুলে দিয়েছেন। এই কঠিন পরিস্থিতিতে দল পরিচালনা অভিজ্ঞ আনচেলত্তি বলা যায় এখন ব্রাজিলের শেষ ভরসা।

আনচেলত্তি এখন কাসেমিরো, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, এনদ্রিক,আলিসন ও নেইমারের মতো খেলোয়াড়দের নিয়ে নতুন করে সমন্বয় করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু বড় সমস্যা হচ্ছে ভিনিসিয়ুস বা আলিসনরা মতো বিশ্বমানের খেলোয়াড়রা ক্লাবের হয়ে যতটা ধারাবাহিক, জাতীয় দলের হয়ে তারা কতটা নন। আর নেইমার তো খেলেননি গত আড়াই বছর।

এবার বাছাইপর্বের পথটাও ব্রাজিলের জন্য খুব একটা মসৃণ ছিল না। নতুন ফরম্যাটে বিশ্বকাপের দল সংখ্যা না বাড়লে হয়তো ব্রাজিলকে অনেক আগেই প্লে-অফের শঙ্কায় পড়তে হতো। বিশ্বকাপে ‘সি’ গ্রুপে সেলেসাওদের সঙ্গী মরক্কো, হাইতি ও স্কটল্যান্ড।

দলের রক্ষণভাগও আগের তুলনায় নড়বড়ে। ওই একই কথা, মার্কিনিওস বা গাব্রিয়েল মাগালায়েস মতো ডিফেন্ডাররা আর্সেনাল বা পিএসজিতে যতটা নজর কাড়েন, আন্তর্জাতিক মঞ্চে এসে তাঁদের সেই রূপটা আর দেখা যায় না। আনচেলত্তি ঘসে মেজে দলকে তৈরি রাখার চেষ্টা করলেও সমস্যাটা কিন্তু গভীরে রয়ে গেছে।

সোজা কথা ব্রাজিল এখন এমন এক কঠিন সমীকরণের মুখে দাঁড়িয়ে যেখানে ট্রফি ছাড়া কিছু কথা হবে না। পুরনো দিনের সব ঐতিহ্যের কথা ভুলে গিয়ে আধুনিক ফুটবলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ব্রাজিলকে বিশ্বকাপে খেলতে হবে। পেলে–রোনালদোর উত্তরসূরিরা কি পারবেন ব্রাজিলের সেই হারানো মর্যাদা পুনরুদ্ধার করতে? ১৯৯৪ সালে যে আমেরিকাতে তারা বিশ্বকাপ জিতেছিল, ২০২৬ সালে এসেও কি এর পুনরাবৃত্তি করতে পারবে? উত্তরটা লুকিয়ে আছে ২০২৬এর জুন-জুলাইয়ের দিনগুলোতে।

নতুন কোচ আনচেলত্তির অধীনে ব্রাজিলের শিরোপা জয়ের স্বপ্নপূরণে কতটা ভূমিকা রাখবে, তা নিয়ে যেমন আশা আছে, তেমনি আছে প্রবল বিতর্ক ও সংশয়।

বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ইতিহাস:

র্যাঙ্কিং: ৬

অংশগ্রহণ: ২৩

সেরা সাফল্য: চ্যাম্পিয়ন (১৯৫৮, ১৯৬২,১৯৭০, ১৯৯৪, ২০০২)

বিশ্বকাপে ব্রাজিলের পারফরম্যান্স:

ম্যাচ১১৪,জয়৭৬ ড্র১৯ হার১৯

বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সূচি:

১৪ জুন মরক্কো নিউজার্সি ভোর ৪টা

২০ জুন হাইতি ফিলাডেলফিয়া সকাল ৭টা

২৫ জুন স্কটল্যান্ড মায়ামি ভোর ৪টা।

হিন্দুস্থান সমাচার / শান্তি রায়চৌধুরি




 

 rajesh pande