
তিরুবনন্তপুরম, ৪ মে (হি. স.) : কেরলম বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত গণনার পর ১৪০টি আসনের ফলাফলে স্পষ্ট হয়েছে বড় রাজনৈতিক পালাবদলের ইঙ্গিত। দীর্ঘ এক দশক পর রাজ্যে ক্ষমতা হারাতে চলেছে বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এলডিএফ) এবং কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ) স্পষ্টভাবে এগিয়ে থেকে সরকার গঠনের পথে রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত ফল অনুযায়ী, কংগ্রেস একাই ৬৩টি আসনে জয়ী হয়েছে। ইউডিএফের শরিকদের মধ্যে ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ (আইইউএমএল) ২২টি, কেরলম কংগ্রেস ৭টি এবং আরএসপি ৩টি আসনে জয় পেয়েছে। অন্যান্য ছোট দল ও নির্দল মিলিয়ে আরও ১১টি আসন রয়েছে।
অন্যদিকে শাসক এলডিএফ শিবির বড় ধাক্কা খেয়েছে। সিপিআই(এম) ২৬টি এবং সিপিআই ৮টি আসনে সীমিত হয়েছে। বিজেপি ৩টি আসনে জয় পেয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ফল কেরলমের রাজনৈতিক মানচিত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে ইউডিএফ স্পষ্টভাবে ক্ষমতার দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে।
দক্ষিণ ভারতের রাজ্য কেরলমে ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয় বিধানসভা নির্বাচন। মোট ১৪০টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়। এবারের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ ও শাসক বামজোট এলডিএফ-এর মধ্যে। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে রাজ্যে ক্ষমতায় ছিল সিপিএম নেতৃত্বাধীন এলডিএফ।
এই নির্বাচনে রাজনৈতিকভাবে বিজেপির উপস্থিতিও কিছুটা নজর কাড়ে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ত্রিশূর আসনে বিজেপির জয় এবং বিভিন্ন স্থানীয় নির্বাচনে তাদের অগ্রগতি এবারের ভোটে নতুন মাত্রা যোগ করে।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এলডিএফ ৯৯টি আসন এবং ইউডিএফ ৪১টি আসন পেয়েছিল। এবারের ফল সেই সমীকরণকে উল্টে দিয়েছে।
এবারের নির্বাচনে গড়ে ভোটদানের হার ছিল প্রায় ৭৮.০১ শতাংশ, যা গত কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম উচ্চ হার হিসেবে ধরা হচ্ছে। ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।
নির্বাচনের আগে রাজ্যের নাম পরিবর্তন, ভোটার তালিকা সংশোধন এবং পোস্টাল ব্যালট ইস্যু রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা রাজ্যের নাম ‘কেরল’ থেকে পরিবর্তন করে ‘কেরলম’ করার অনুমোদন দেয়, যা ভোটের আগে বড় বিতর্ক তৈরি করে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য