
কলকাতা, ৬ মে ( হি. স.) : ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর বুধবার বিকেলে কালীঘাটে নবনির্বাচিত বিধায়কদের নিয়ে এক জরুরি বৈঠক করেন তৃণমূল সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বৈঠকে তিনি দাবি করেন, অন্তত ১০০টির বেশি আসনে তৃণমূল প্রার্থীদের ‘জোর করে হারিয়ে’ দেওয়া হয়েছে। এই ভোট লুঠের অভিযোগ নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস শীঘ্রই দেশের সর্বোচ্চ আদালত বা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে চলেছে।
মঙ্গলবার নবান্ন থেকে দেওয়া বার্তার রেশ ধরেই এদিনের বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দেন যে, তিনি মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেবেন না। তাঁর মতে, এই পরাজয় ‘অনৈতিক’ এবং ষড়যন্ত্রমূলক। বৈঠকে তিনি আবেগপ্রবণ কণ্ঠে বলেন, “আমি পদত্যাগ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ওরা চাইলে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করতে পারে, আমায় বরখাস্ত করতে পারে। কিন্তু সেই দিনটি ইতিহাসের পাতায় কালো দিন হিসেবে নথিবদ্ধ থাকবে।”
দলের অভ্যন্তরীণ কাজের তদারকি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এদিন একটি নতুন ‘শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি’ গঠন করে দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। এই কমিটিতে রয়েছেন ডেরেক ও’ব্রায়েন, ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, শুভাশিস চক্রবর্তী এবং অসীমা পাত্র। পাশাপাশি, জয়ী বিধায়কদের অবিলম্বে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে গিয়ে সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
রাজ্যে ফলাফল আশানুরূপ না হলেও, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লক্ষ্য এখন ‘দিল্লি’। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী দিনে জাতীয় স্তরে লড়াই চালিয়ে যাবে তৃণমূল। সেই লক্ষ্যে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বাকি শরিকদের সঙ্গে দলগতভাবে এবং সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
ভবানীপুর আসন থেকে ১৫,১০৫ ভোটে পরাজিত হওয়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে এখন প্রশাসনিক কাজের তুলনায় রাজনৈতিক ও আইনি লড়াইয়ের সময় অনেক বেশি। এদিনের সভায় তিনি জানান, রাজনীতির পাশাপাশি একজন পেশাদার আইনজীবী হিসেবেও তিনি নিজের কাজ পুনরায় শুরু করবেন এবং আইনি পথেই এই ‘অন্যায়ের’ মোকাবিলা করবেন।
উল্লেখ্য, এদিনের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বীরভূমের কাজল শেখ এবং বায়রন বিশ্বাস-সহ কয়েকজন জয়ী প্রার্থীর অনুপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি