
কলকাতা , ৬ মে (হি. স.) : পরের বার ৬০ শতাংশ ভোট পাবে বিজেপি—সাংবাদিক সম্মেলন করে এই দাবি করলেন শুভেন্দু অধিকারী। ধর্ম ও সম্প্রদায়ের ঊর্ধ্বে উঠে গুন্ডাদমন করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
ভবানীপুর ছিল তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গড়। ২০১১, ২০১৬ ও ২০২১ সালে তিনি বিপুল ভোটে জিতেছেন। কিন্তু সেই জয় স্বচ্ছ ছিল না বলে দাবি করলেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর থেকে সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, “গত ১০-১৫ বছর অনেকেই এখানে ভোট দিতে পারেননি।” ২০২১ সালের নির্বাচনের তুলনায় এবার ভোট-পরবর্তী অশান্তি তেমন কিছু হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার পর থেকেই প্রশাসনিক স্তরে একের পর এক রদবদল করেছিল নির্বাচন কমিশন। উদ্দেশ্য ছিল একটাই—নির্বাচন যেন শান্তিপূর্ণ হয়। দুই দফার ভোট নির্বিঘ্নেই মিটেছে। গণনার দিনও তেমন কোনো অশান্তির খবর মেলেনি।
ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মতে, বাংলার নির্বাচনী ইতিহাসে এমন ভোট আগে দেখা যায়নি। সেই সূত্রেই মমতার বিরুদ্ধে পরোক্ষে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুললেন শুভেন্দু। এবার ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৫,১০৫ ভোটে হারিয়েছেন তিনি। শুভেন্দু বলেন, “আগামী নির্বাচনে আমাদের ভোট আরও বাড়বে। অন্তত ৬০ শতাংশ ভোট পাবে বিজেপি। ভবানীপুরে গত ১০-১৫ বছরে অনেকেই ভোট দিতে পারেননি।”
ফলপ্রকাশের পর থেকেই বাংলা জুড়ে তৃণমূল কর্মীদের ওপর হামলা শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মারধর ও দলীয় কার্যালয় দখলের অভিযোগ আসছে যত্রতত্র। এই নিয়ে প্রশ্ন করতেই রীতিমতো হুঁশিয়ারির সুরে শুভেন্দু বলে দিলেন, “কোথায় হয়েছে? জেলা, গ্রাম ও পাড়ার নাম বলুন।” তাঁর স্পষ্ট দাবি, “২০২১ ও ২০২৩ সালের তুলনায় বড় কোনো অশান্তি হয়নি।”
তৃণমূলকে কটাক্ষ করে বিজেপি কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “পাপীদের দলীয় কার্যালয়ের দিকে তাকাবেন না। ওখানে নারী নির্যাতন ও বোমা বাঁধা থেকে সমস্ত রকমের অসামাজিক কাজ হতো।”
২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসার সঙ্গে তুলনা করে শুভেন্দু বলেন, “আমি ডিজিপি-কে ফোন করেছিলাম। ক’টা এফআইআর হয়েছে বলুন? সেবার ১২ হাজার এফআইআর হয়েছিল। ১ লক্ষ ১০ হাজার বিজেপি কর্মী ঘরছাড়া ছিলেন।” সেই সময়ে অনেকেই অসমে আশ্রয় নিয়েছিলেন, সে কথাও মনে করিয়ে দেন তিনি। তাঁর কথায়, “মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা তাঁদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন। আমরা এখানে ৩৫৫টি আশ্রয় শিবির খুলেছিলাম। এখন কি সেই রকম হচ্ছে? আপনারাই বলুন।” তবে তিনি কোনো রকম হিংসা সমর্থন করেন না বলেও স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি