
আগরতলা, ৬ মে (হি.স.) : রাজধানী আগরতলার মানুষের বহুদিনের প্রতীক্ষার অবসান হতে চলেছে। শহরের হৃদয়ে, জ্যাকসন গেট সংলগ্ন নবনির্মিত সিভিল হাসপাতাল খুব শীঘ্রই খুলে যেতে চলেছে জনসাধারণের জন্য—এমনই আশার আলো দেখালেন আগরতলা পুর নিগমের মেয়র দীপক মজুমদার। বুধবার হাসপাতালটি পরিদর্শনে গিয়ে তিনি যেন শুধু একটি ভবন নয়, ভবিষ্যতের এক মানবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার স্বপ্নকেই ছুঁয়ে দেখলেন।
পরিদর্শন শেষে মেয়রের কণ্ঠে ছিল আত্মবিশ্বাস আর আবেগের মিশেল। তিনি বলেন, “এই হাসপাতাল শুধু একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র নয়, এটি আগরতলাবাসীর জন্য এক নতুন ভরসার ঠিকানা। আমরা চাই, খুব দ্রুত এটি মানুষের জন্য খুলে দিতে, যাতে সাধারণ মানুষ সহজে ও সুলভে উন্নত চিকিৎসা পেতে পারেন।”
৫০ শয্যা বিশিষ্ট এই আধুনিক সিভিল হাসপাতালটি গড়ে উঠেছে অত্যাধুনিক পরিকাঠামো নিয়ে। থাকছে একাধিক বিশেষজ্ঞ বিভাগের আউটডোর পরিষেবা (ওপিডি), ছোটখাটো অস্ত্রোপচারের জন্য মাইনর অপারেশন থিয়েটার, রোগীদের সুবিধার্থে লিফটসহ উন্নত ব্যবস্থাপনা। শুধু তাই নয়, সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত পরিষেবা চালু রাখার পরিকল্পনা শহরের কর্মব্যস্ত মানুষের জন্য এক বড় স্বস্তির খবর।
বর্তমানে অতিরিক্ত রোগীর চাপে ন্যুব্জ জিবিপি হাসপাতাল ও আইজিএম হাসপাতালের ওপর থেকে অনেকটাই চাপ কমবে বলে আশাবাদী প্রশাসন। নতুন এই উদ্যোগ যেন সেই ক্লান্ত স্বাস্থ্যব্যবস্থার কাঁধে এক নতুন শক্তির সঞ্চার করবে।
মেয়র আরও জানান, দেশের মহানগর মুম্বইয়ের পুর নিগম পরিচালিত হাসপাতালগুলির সফল মডেল অনুসরণ করেই এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। অর্থাৎ, শুধু অবকাঠামো নয়, পরিষেবার মান ও ব্যবস্থাপনাতেও থাকবে আধুনিকতার ছোঁয়া। হাসপাতালটির সম্পূর্ণ পরিচালনার দায়িত্ব থাকবে আগরতলা পুর নিগমের হাতেই—যা নাগরিক পরিষেবার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
এই প্রকল্পটি রাজ্য সরকারের বৃহত্তর স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়ন পরিকল্পনারই একটি অংশ। লক্ষ্য একটাই—শহরের প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া উন্নত, সহজলভ্য এবং মানবিক চিকিৎসা পরিষেবা।
এদিনের পরিদর্শনে মেয়রের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় কর্পোরেটর রত্না দত্ত, পুর নিগমের অতিরিক্ত কমিশনার মিহির ঘোষ এবং হাসপাতালের শীর্ষ আধিকারিকরা। তাঁরা হাসপাতালের প্রস্তুতির খুঁটিনাটি বিষয় মেয়রকে তুলে ধরেন, আর সেই আলোচনায় ফুটে ওঠে দ্রুত চালুর জোর প্রস্তুতির ছবি।
সব মিলিয়ে, এই সিভিল হাসপাতাল যেন শুধু একটি ভবন নয়—এটি আগরতলার মানুষের জন্য এক নতুন আশার আলো, এক নিরাপদ আগামীকালের প্রতিশ্রুতি। শহরবাসীর চোখে এখন একটাই প্রত্যাশা—কবে খুলবে এই দরজা, আর কবে থেকে মিলবে সেই বহু প্রতীক্ষিত চিকিৎসা পরিষেবা।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ