পুলিশের এনকাউন্টারে নিহত রোজ আলির জানাজা ও মৃতদেহ কবরস্থ করতে বাধা গ্রামবাসীর
নলবাড়ি (অসম), ১ জুন (হি.স.) : নলবাড়ির গঙ্গাপুর হামলার প্রধান অভিযুক্ত পুলিশের এনকাউন্টারে নিহত রোজ আলির মৃতদেহ গ্রামীণ কবরস্থানে সমাধিস্থ করতে অনুমতি দেননি দেহারকালাকুচি গ্রামের মানুষ। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোজ আলির গৃহগ্রাম দেহারকালাকুচির
এনকাউন্টারে নিহত রোজ আলি ওরফে আসিফ আলি


নলবাড়ি (অসম), ১ জুন (হি.স.) : নলবাড়ির গঙ্গাপুর হামলার প্রধান অভিযুক্ত পুলিশের এনকাউন্টারে নিহত রোজ আলির মৃতদেহ গ্রামীণ কবরস্থানে সমাধিস্থ করতে অনুমতি দেননি দেহারকালাকুচি গ্রামের মানুষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোজ আলির গৃহগ্রাম দেহারকালাকুচির বাসিন্দাদের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী পাঁচটি গ্রামের মানুষ যৌথভাবে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। এছাড়া, গ্রামবাসীরা মৃত ব্যক্তির জানাজা ও দাফন-সংক্রান্ত কোনও ধর্মীয় বা সামাজিক আচার-অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

মুকালমুয়ায় সংঘটিত এক পুলিশি এনকাউন্টারে রোজ আলি নিহত হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন গ্রামের জনসাধারণ।

প্রসঙ্গত, রবিবার রাতে মামা-বাড়ি থেকে নিজের পিসতুতো বোন ১৮ বছর বয়সি মৃদুমুদ্রা ডেকাকে সঙ্গে নিয়ে বাইকে করে বাড়ি যাচ্ছিলেন বছর ২০-এর মাধুর্য বর্মণ। গঙ্গাপুরের নির্জন এলাকায় তাঁদের আগমনের অপেক্ষায় ওৎ পেতে বসেছিল সশস্ত্র রোজ খান ওরফে আসিফ আলি এবং হিতেশ আলি। এক সময় মাধুর্য বর্মণের বাইকের গতিরোধ করে মৃদুমুদ্রা বর্মণকে অপরহণের আপ্রাণ চেষ্টা করে রোজ খানরা।

ভাই মাধুর্যের বাধা পেয়ে তাঁর ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে প্রাণঘাতী হামলা চালায় রোজ ও তার সঙ্গী। তারা মৃদুমুদ্রার ওপরও হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্রের উপর্যুপরি ঘায়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান চামতার বালিপাথরের বাসিন্দা এবং পশ্চিম নলবাড়ি আঞ্চলিক ছাত্র সংস্থার (আসু) সহ-সাধারণ সম্পাদক মাধুর্য বর্মণ। ধারালো অস্ত্রের ঘায়ে গুরুতরভাবে আহত হয়েছে বোন মৃদুমুদ্রা। তাঁর গলায় দায়ের কয়েকটি কোপ পড়েছে।

ঘটনার খবর পেয়ে মুকালমোয়া থানা থেকে পুলিশের দল অকুস্থলে ছুটে যায়। তাঁরা রক্তাক্ত মাধুর্য এবং মৃদুমুদ্রাকে উদ্ধার করে গৌহাটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। মেডিক্যালে মাধুর্য বর্মণকে মৃত বলে ঘোষণা করে গুরুতর আহত মৃদুমুদ্রা ডেকাকে হাসপাতালের আইসিইউতে ভরতি করে চিকিৎসা শুরু করেছেন ডাক্তাররা। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

এদিকে মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন মৃদুমুদ্রার প্রদত্ত বয়ানের বয়ানের ভিত্তিতে প্রাণঘাতী হামলার সঙ্গে জড়িত মূল অভিযুক্ত পূর্ব কালাকুচি গ্রামের বাসিন্দা রোজ খান ওরফে আসিফ আলি এবং সাঁকরেদ হিতেশ আলিকে পাকড়াও করতে ব্যাপক অভিযান চালায় পুলিশ।

গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মুকালমুয়ার নিছলামারি চর এলাকা থেকে পুলিশের অভিযানকারীরা আত্মগোপনকারী রোজ আলিকে গ্রেফতার করেন। ধৃত অভিযুক্তকে থানায় নিয়ে আসার পথে পুলিশের বন্দুক ছিনিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাকে রুখতে গুলি চালাতে বাধ্য হয় পুলিশ।

পুলিশের গুলিতে রোজ আলি গুরুতরভাবে আহত হয়। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসা হচ্ছিল। কিন্তু অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে রাস্তায় তার মৃত্যু হয়।

হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস




 

 rajesh pande