বিশ্ববাংলা বাণিজ্য সম্মেলনের নামে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে: অগ্নিমিত্রা পাল
দুর্গাপুর, ১৪ জুন (হি.স.) : আগামী ২২ জুন রাজ্যের নতুন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশের আগে শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুরে দক্ষিণবঙ্গের সাত জেলার ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোগীদের সঙ্গে প্রাক-বাজেট মতবিনিময় বৈঠকে বসল রাজ্যের অর্থ দফতর। রবিবার বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন
বিশ্ববাংলা বাণিজ্য সম্মেলনের নামে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে: অগ্নিমিত্রা পাল


দুর্গাপুর, ১৪ জুন (হি.স.) : আগামী ২২ জুন রাজ্যের নতুন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশের আগে শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুরে দক্ষিণবঙ্গের সাত জেলার ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোগীদের সঙ্গে প্রাক-বাজেট মতবিনিময় বৈঠকে বসল রাজ্যের অর্থ দফতর। রবিবার বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাসগুপ্ত, রাষ্ট্রমন্ত্রী (অর্থ) আনন্দময় বর্মন, পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এবং সংশ্লিষ্ট দফতরের শীর্ষ আধিকারিকরা।বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। তাঁর অভিযোগ, “কোটি কোটি টাকা খরচ করে বিশ্ববাংলা বাণিজ্য সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। বিদেশি খাবার পরিবেশন করা হয়েছে, কিন্তু শিল্প কোথায় এসেছে, কর্মসংস্থান কোথায় হয়েছে? বাণিজ্য সম্মেলনের নামে মানুষকে বোকা বানানো হয়েছে।”তিনি আরও বলেন, বিধানসভায় একাধিকবার বিশ্ববাংলা বাণিজ্য সম্মেলনের সাফল্য ও বিনিয়োগের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছিল, কিন্তু তৎকালীন সরকার তা করেনি।রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়েও সরব হন অগ্নিমিত্রা। তাঁর দাবি, “প্রতি রাজ্যবাসীর মাথার ওপর ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকার ঋণের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে গেছে আগের সরকার। সঙ্গে দিয়ে গেছে সিন্ডিকেটরাজ ও তোলাবাজির সংস্কৃতি। এই পরিস্থিতি থেকে রাজ্যকে বের করে আনা সহজ নয়, তবে আমরা সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছি।”এদিনের বৈঠকে ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোগীরা জমির ব্যবহার, বিদ্যুতের দাম, শিল্পোন্নয়ন এবং বিনিয়োগ-বান্ধব পরিবেশ তৈরির বিষয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।অর্থমন্ত্রী স্বপন দাসগুপ্ত বলেন, “আমাদের সরকার ব্যবসাবান্ধব এবং উন্নয়নমুখী সরকার। বাজেট তৈরির আগে শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের মতামত গ্রহণ করা হচ্ছে। অনেকে অব্যবহৃত জমি, কেউ বিদ্যুতের খরচ, আবার কেউ শিল্পোন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোর বিষয়ে মতামত দিয়েছেন। নতুন পরিকল্পনার মাধ্যমে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির দিকেও সরকার জোর দেবে।”তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সাংসদদের সংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে অগ্নিমিত্রা পাল কটাক্ষ করে বলেন, “আগে তাঁদের শুভবুদ্ধির উদয় হয়নি। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরই অনেকের শুভবুদ্ধির উদয় হয়েছে।”প্রাক-বাজেট বৈঠককে শিল্প ও বাণিজ্য ক্ষেত্রের জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে সরকার দাবি করেছে, ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোগীদের মতামতের ভিত্তিতেই আগামী বাজেটে নতুন নীতি ও কর্মসূচির রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে।

হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা




 

 rajesh pande