
চূড়াচাঁদপুর (মণিপুর), ১৪ জুন (হি.স.) : অস্ত্র নিয়ে যারা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, কড়া বার্তা দিয়েছেন মণিপুরের নবাগত পুলিশ মহাপরিচালক (ডিজিপি) মুকেশ সিং। হুঁশিয়ারি দিয়ে ডিজিপি আরও বলেছেন, নিরাপত্তা বাহিনীর দিকে যে বা যারা গুলি চালাবে, আত্মরক্ষার্থে তাদের মোকাবিলা করা হবে।
রাজ্যের পুলিশ-প্রধান হিসেবে যোগদানের পর চূড়াচাঁদপুর জেলায় প্রথম সফরে এসে একাধিক পুলিশ অফিসার এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ডিজিপি মুকেশ সিং। শনিবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে ছিলেন চূড়াচাঁদপুর ও বিষ্ণুপুর জেলার পুলিশ অফিসারগণ, কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী, আসাম রাইফেলস সহ অন্য নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যবৃন্দ এবং বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিবর্গ।
বৈঠকের পর আজ আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে ডিজিপি বলেন, রাজ্যে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে না আসা পর্যন্ত সক্রিয় নিরাপত্তা অভিযান চালিয়ে যাওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘কেউ যদি অস্ত্র নিয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে, তা-হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যাদের কাছে অস্ত্র থাকবে তাদের গ্রেফতার করা হবে। যারা আমাদের দিকে গুলি চালানোর চেষ্টা করবে, আত্মরক্ষার্থে মোকাবিলা করা হবে।’
পুলিশ-প্রধান জানান, রাজ্যে জাতিগত হিংসার সময় লুণ্ঠিত অস্ত্রের প্রায় ৭০ শতাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ভুয়ো তথ্য ছড়িয়ে পড়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ডিজিপি। তিনি জানান, পুলিশ অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলির ওপর নজর রাখছে। যারা মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে, এমন ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ডিজিপি বলেন, ‘সামাজিক মাধ্যমে প্রচুর ভুয়ো তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। আমাদের একটি সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং সেল রয়েছে। যারা মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত তৈরির চেষ্টা করে, তাদের চিহ্নিত করে এই সেল।’
আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিরাপত্তা সংস্থাগুলির প্রচেষ্টার প্রশংসা করে ডিজিপি বলেন, মাদক উদ্ধার অভিযান, সশস্ত্র দুষ্কৃতীদের গ্রেফতার এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে জেলা নিরাপত্তা বাহিনী সহ পুলিশ কর্মীরা অত্যন্ত ভালো কাজ করছেন। ডিজিপি মুকেশ সিং বলেন, মণিপুরে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং অবৈধ কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস