
দুর্গাপুর, ১৪ জুন (হি.স.) : ডিম বৃষ্টি নয়, অমলেট খাইয়েই প্রতিবাদ। দুর্গাপুরের ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে শনিবার রাতে দেখা গেল এক অভিনব রাজনৈতিক প্রতিবাদ। জমির পাট্টা পাইয়ে দেওয়ার নামে টাকা তোলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। সেই ক্ষোভের মুখে তৃণমূলের এক স্থানীয় নেতাকে ঘিরে তৈরি হয় ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি।
অভিযোগ, বিদায়ী তৃণমূল কাউন্সিলর শিপুল সাহা এবং তাঁর অনুগামীরা মহানন্দ কলোনি, বীরভানপুর-সহ একাধিক এলাকা থেকে জমির পাট্টা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়েছিলেন। শনিবার রাতে মহানন্দ কলোনির একটি বাড়ি থেকে বিপুল সংখ্যক পাট্টার ফর্ম উদ্ধার হওয়ার দাবি ওঠে। ওই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও তার সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই এলাকার একাংশের বাসিন্দা এবং বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা পাট্টার ফর্ম ও ঝাঁটা হাতে বিক্ষোভে সামিল হন। তাঁদের দাবি, পাট্টার নামে যাঁদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে, তা অবিলম্বে ফেরত দিতে হবে।
বিক্ষোভের মধ্যেই বিদায়ী কাউন্সিলরের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত স্থানীয় তৃণমূল নেতা সুকুমার চক্রবর্তীকে ডেকে পাঠানো হয়। তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছলে তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখানো হলেও কোনও হেনস্থা বা ডিম ছোড়ার ঘটনা ঘটেনি। বরং তাঁকে চেয়ারে বসিয়ে কার্যত ‘জামাই আদর’ করে ডিমের অমলেট খাওয়ানো হয়। এরপর তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়, পাট্টার নামে কত টাকা তোলা হয়েছে এবং সেই টাকা কোথায় গিয়েছে।
স্থানীয় বিজেপি নেতা দীপক দাসের দাবি, “সাধারণ মানুষের কাছ থেকে নেওয়া টাকার হিসেব দিতে হবে। কেন মানুষ পাট্টা পেল না, তারও জবাব দিতে হবে।”
অন্যদিকে, সুকুমার চক্রবর্তীর দাবি, “টাকা কোথায় গেল এবং কেন মানুষ পাট্টা পেল না, তার উত্তর একমাত্র বিদায়ী কাউন্সিলর শিপুল সাহাই দিতে পারবেন।”
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে বিদায়ী কাউন্সিলর শিপুল সাহার কোনও প্রতিক্রিয়া অবশ্য যায়নি।
হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা