
আগরতলা, ১৪ জুন (হি.স.) : ত্রিপুরা বার অ্যাসোসিয়েশনের বহুল আলোচিত ও হাই-ভোল্টেজ নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেল বিজেপি সমর্থিত আইনজীবী উন্নয়ন মঞ্চ। সভাপতি ও সম্পাদকসহ মোট ১৫টি পদের মধ্যে ১০টিতে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করেছে সংবিধান বাঁচাও মঞ্চ। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর আদালত চত্বরে বিজয়ী প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে উৎসবের আবহ দেখা যায়।
শনিবার অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে সকাল থেকেই আইনজীবীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হওয়ার পর বিকেল থেকে ভোট গণনা শুরু হয়। গভীর রাতে ফল প্রকাশ হয়। গণনার প্রথম রাউন্ড থেকেই সংবিধান বাঁচাও মঞ্চের প্রার্থীরা একের পর এক আসনে এগিয়ে যেতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত সভাপতি, সম্পাদক, দুই সহ-সম্পাদকসহ ছয়টি কার্যকরী সদস্য পদে জয়লাভ করে তাঁরা মোট ১০টি আসন নিজেদের দখলে আনতে সক্ষম হয়।
অন্যদিকে, বিজেপি পরিচালিত আইনজীবী উন্নয়ন মঞ্চকে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে মাত্র পাঁচটি আসন নিয়ে। গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর মধ্যে কেবল সহ-সভাপতি পদটি তাঁদের ঝুলিতে যায়। ফলে দীর্ঘদিন পর বার অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচনে বিরোধী শিবিরের এই সাফল্য রাজনৈতিক মহলেও ব্যাপক চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।
নির্বাচনে সভাপতি পদে বিপুল ভোটে জয়ী হন সংবিধান বাঁচাও মঞ্চের প্রার্থী পৃথা দেব পাল। সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন বিশিষ্ট আইনজীবী ভাস্কর দেববর্মা। ফলাফল ঘোষণার পর নবনির্বাচিত সভাপতি পৃথা দেব পাল সকল বিজয়ী প্রার্থী, সমর্থক এবং ভোটার আইনজীবীদের অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, “আইনজীবীদের আস্থা ও সমর্থনের মর্যাদা রক্ষা করাই আমাদের প্রধান দায়িত্ব। আমরা রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে বঞ্চিত, নিপীড়িত ও সাধারণ মানুষের আইনি অধিকার রক্ষার পাশাপাশি আইনজীবীদের সার্বিক কল্যাণ ও পেশাগত উন্নয়নের জন্য কাজ করব।”
অপরদিকে সম্পাদক পদে নির্বাচিত ভাস্কর দেববর্মা বলেন, “সংবিধান বাঁচাও মঞ্চকে অস্তিত্বহীন করে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু ফলাফল প্রমাণ করে দিয়েছে যে আইনজীবীরা গণতন্ত্র, স্বচ্ছতা এবং ন্যায়ের পক্ষে রায় দিয়েছেন। অতীতে সম্পাদক হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এবারও আইনজীবীদের স্বার্থ রক্ষায় এবং বারের সামগ্রিক উন্নয়নে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাব।”
তিনি আরও বলেন, নবীন ও প্রবীণ আইনজীবীদের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি, পেশাগত পরিকাঠামোর উন্নয়ন, আদালত সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা সমাধান এবং আইনজীবীদের কল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
ভোট গণনা শেষ হতে গভীর রাত হয়ে যায়। তারপরও আদালত চত্বরে আইনজীবী ও সমর্থকদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে নির্বাচন ও ভোট গণনা ঘিরে কোথাও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সমগ্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের প্রশংসা করেন আইনজীবীরা।
নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের অভিনন্দন জানান। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ত্রিপুরা বার অ্যাসোসিয়েশনের এই ফলাফল শুধু আইনজীবী মহলেই নয়, রাজ্যের বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিসরেও তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা বহন করছে। এখন সকলের নজর নবনির্বাচিত নেতৃত্ব তাঁদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কতটা সফল হয় সেদিকে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ