গত ১২ বছরে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে রেলওয়ে সংযোগ ব্যবস্থার নয়া রূপ প্রদান এনএফ রেলের
গুয়াহাটি, ১৪ জুন (হি.স.) : বিগত ১২ বছরে রেলওয়ে পরিকাঠামো, সংযোগ-ব্যবস্থা, বৈদ্যুতিকীকরণ এবং যাত্রী পরিষেবার ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব অগ্রগতির মাধ্যমে উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের এক প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে পরিগণিত
উত্তর-পূর্বাঞ্চলে রেলওয়ে সংযোগ ব্যবস্থার নয়া রূপ প্রদান এনএফ রেলের


গুয়াহাটি, ১৪ জুন (হি.স.) : বিগত ১২ বছরে রেলওয়ে পরিকাঠামো, সংযোগ-ব্যবস্থা, বৈদ্যুতিকীকরণ এবং যাত্রী পরিষেবার ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব অগ্রগতির মাধ্যমে উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের এক প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে পরিগণিত হয়েছে।

আজ রবিবার এক প্রেস বিবৃতিতে এই দাবি করে উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জল কিশোর শর্মা জানান, এই সময়ে অন্যতম উল্লেখযোগ্য সাফল্য হলো উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সম্পূর্ণ মিটার গেজ রেলপথকে ব্রডগেজে রূপান্তর করা। রেলপথের বৈদ্যুতিকীকরণ, যা ২০১৪-এর আগে কার্যত ছিল না বললে চলে। তা এখন সমগ্র নেটওয়ার্কের ৯৫ শতাংশের বেশি অংশে বিস্তৃত হয়েছে। ৪,১৭০ কিলোমিটারের বেশি রুটে বিদ্যুতায়নের কাজ সম্পন্ন হওয়ায় ট্রেন চলাচল এখন আরও দ্রুত, পরিবেশ-বান্ধব ও দক্ষ হয়ে উঠেছে।

তিনি জানান, উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে নতুন লাইন ও ডাবলিং প্রকল্প সহ ২,০০০ কিলোমিটারের বেশি নতুন রেললাইন স্থাপন করেছে। একই সাথে অরুণাচল প্রদেশ, ত্রিপুরা ও মিজোরামের রাজধানী পর্যন্ত রেল যোগাযোগ সম্প্রসারিত করেছে। সিকিম, নাগাল্যান্ড এবং মণিপুরে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। এগুলো সমগ্র অঞ্চল জুড়ে সংযোগ ব্যবস্থাকে আরও মজবুত করে তুলবে।

'অমৃত ভারত স্টেশন স্কিম'-এর অধীনে স্টেশনগুলোর পুনর্বিকাশ, বন্দেভারত, অমৃত ভারত ও বন্দেভারত স্লিপারের মতো আধুনিক ট্রেন পরিষেবার প্রবর্তন, এবং লিফট, এসকেলেটর, ডিজিটাল টিকিট ব্যবস্থা ও উন্নত স্টেশন পরিকাঠামোর মতো সুযোগ-সুবিধা সংযোজনের ফলে যাত্রীদের সুবিধা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে বেশ কিছু যুগান্তকারী প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে রয়েছে গুয়াহাটিতে শরাইঘাট ব্রিজের পাশাপাশি একটি নতুন রেল-কাম-রোড ব্রিজ নির্মাণ এবং কোকরাঝাড়ের বাঁশবাড়িতে ওয়াগন পিরিয়ডিক ওভার হলিং ওয়ার্কশপ স্থাপন। উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে ভুটানের সাথে বানারহাট-সামতসে এবং কোকরাঝাড়-গেলেফু রেলওয়ে সংযোগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থাও সম্প্রসারিত করছে। এতে এই অঞ্চলে আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করবে।

প্রেস বিবৃতিতে কপিঞ্জল কিশোর শর্মা জানান, উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে সুরক্ষা, পণ্য পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পরিবেশ সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও বেশকিছু অগ্রণী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ৫০০-এর বেশি ‘রোড ওভারব্রিজ’ ও ‘রোড আন্ডার ব্রিজ’ নির্মাণ করা হয়েছে, এআই-ভিত্তিক এলিফেন্ট ইনট্রুশন ডিটেকশন সিস্টেম চালু করা হয়েছে এবং হুলকগিবনদের জন্য উদ্ভাবনী ক্যানোপি ব্রিজ স্থাপন করা হয়েছে। বেশ কয়েকটি যুগান্তকারী রেলওয়ে প্রকল্প চলমান থাকায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে আরও সংযুক্ত, আধুনিক ও সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস




 

 rajesh pande