
শ্রীভূমি (অসম), ১৪ জুন (হি.স.) : অবৈধভাবে ভারত ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশ কিংবা পুশব্যাক-পুশইন ইস্যুর পরিপ্রেক্ষিতে গোটে অসমের পাশাপাশি শ্রীভূমি জেলার অন্তর্গত ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে শ্রীভূমি জেলার আন্তর্জাতিক সীমান্তে বিএসএফ, জেলা পুলিশ এবং সেকেন্ড লাইন ডিফেন্সকে আরও বেশি সক্রিয় করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত টহল, চেকিং এবং গোয়েন্দা নজরদারিও বৃদ্ধি করা হয়েছে।
সম্প্রতি জাতীয় নিরাপত্তা ও রাজ্যের স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে কঠোর অবস্থানের কথা ঘোষণা করেছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে, জানা গেছে প্রশাসনিক সূত্রে।
বিএসএফ-এর পক্ষ থেকে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে সচেতনতামূলক সভা ও মতবিনিময় কর্মসূচির আয়োজন করা হচ্ছে। গ্রামবাসী, পঞ্চায়েত প্রতিনিধি এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এ সব সভায় অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক পাচার ও সীমান্ত চোরাচালান সংক্রান্ত তথ্য দ্রুত নিরাপত্তা বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানানো হচ্ছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশের সিলেট বিভাগের জকিগঞ্জ, কানাইঘাট, বিয়ানিবাজার, বড়লেখা ও মৌলভিবাজার সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী ‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ’ও (বিজিবি) নজরদারি এবং টহল বাড়িয়েছে। বিভিন্ন স্থানে মাইকিং ও গণসংযোগ কর্মসূচির পাশাপাশি স্থানীয় গ্রামবাসীদের সহযোগিতায় রাতভর পাহারার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সঙ্গে শ্রীভূমি জেলার প্রায় ৯২ কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে। এর মধ্যে কুশিয়ারা নদী সংলগ্ন প্রায় ৪.৩৫ কিলোমিটার উন্মুক্ত সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তা সংস্থাগুলির কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। বর্তমানে নদীপথে অতিরিক্ত স্পিডবোট মোতায়েন করে টহল জোরদার করা হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, সীমান্তে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / স্নিগ্ধা দাস