সেচ প্রকল্প অচল, জল সংকটে বিপাকে রতিয়াবাড়ির কৃষকরা
কুমারঘাট (ত্রিপুরা), ১৪ জুন (হি.স.) : ঊনকোটি জেলার কুমারঘাট পুর পরিষদের অন্তর্গত রতিয়াবাড়ি এক নম্বর ওয়ার্ডে দীর্ঘদিন ধরে অচল হয়ে পড়ে রয়েছে সরকারি সেচ প্রকল্পের পাম্প মেশিন। ফলে চাষের মরসুমে পর্যাপ্ত সেচের জল না পেয়ে ব্যাপক সমস্যার সম্মুখীন হ
জমিতে সেচের সমস্যা


কুমারঘাট (ত্রিপুরা), ১৪ জুন (হি.স.) : ঊনকোটি জেলার কুমারঘাট পুর পরিষদের অন্তর্গত রতিয়াবাড়ি এক নম্বর ওয়ার্ডে দীর্ঘদিন ধরে অচল হয়ে পড়ে রয়েছে সরকারি সেচ প্রকল্পের পাম্প মেশিন। ফলে চাষের মরসুমে পর্যাপ্ত সেচের জল না পেয়ে ব্যাপক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন এলাকার কৃষকরা। বাধ্য হয়ে ঘন্টাভিত্তিক ভাড়ায় বেসরকারি পাম্প মেশিন ব্যবহার করে জমিতে জল সরবরাহ করতে হচ্ছে, যার ফলে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় লাভের মুখ দেখতে পারছেন না কৃষকরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলের কৃষকদের সুবিধার্থে বামফ্রন্ট সরকারের আমলে মনু নদীর পাড়ে একটি সরকারি সেচ প্রকল্প স্থাপন করা হয়েছিল। প্রকল্পের আওতায় বসানো হয়েছিল একটি পাম্প মেশিন, যার মাধ্যমে আশপাশের বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে সেচের জল সরবরাহ করা হতো। প্রথমদিকে কিছুদিন প্রকল্পটি কার্যকর থাকলেও পরে অজ্ঞাত কারণে পাম্প মেশিনটি বিকল হয়ে পড়ে। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও প্রকল্পটি আর সচল করা হয়নি।

কৃষকদের অভিযোগ, রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পরও প্রকল্পটির সংস্কার বা পুনরুজ্জীবনের জন্য কোনও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে বর্তমানে সেচ প্রকল্পটি কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পাম্পঘর ও আশপাশের এলাকা ঝোপঝাড়ে ঢেকে যেতে শুরু করেছে।

স্থানীয় কৃষক সামলু দাস জানান, বহু বছর ধরে পাম্প মেশিনটি বন্ধ অবস্থায় রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয় পঞ্চায়েত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও কোনও সমাধান মেলেনি। তিনি বলেন, “জমিতে চাষাবাদ করতে হলে বাইরে থেকে পাম্প ভাড়া করে জল তুলতে হচ্ছে। এতে খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে। পর্যাপ্ত সেচের ব্যবস্থা না থাকায় কৃষিকাজও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।”

আরেক কৃষক দুর্গেশ দাস বলেন, “বর্তমানে ধানের চারা রোপণের সময়। কিন্তু সেচের জলের অভাবে সময়মতো কাজ শুরু করতে পারছি না। বাধ্য হয়ে ঘন্টাপ্রতি প্রায় ৩০০ টাকা ভাড়া দিয়ে পাম্প মেশিন ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে কৃষকদের আর্থিক চাপ বাড়ছে।” তিনি দাবি করেন, প্রায় ১৫ বছর ধরে সরকারি পাম্প মেশিনটি বিকল অবস্থায় রয়েছে। বহুবার গ্রাম নেতৃত্ব ও প্রশাসনের কাছে বিষয়টি জানানো হলেও কোনও ফল মেলেনি।

কৃষকদের মতে, সরকারি সেচ প্রকল্পটি পুনরায় চালু করা গেলে এলাকার শতাধিক কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন এবং কৃষি উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে। তাই অবিলম্বে প্রকল্পটির সংস্কার ও পাম্প মেশিনটি সচল করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

উল্লেখ্য, কৃষকদের উন্নয়ন ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকার বিভিন্ন সময়ে নানা প্রকল্প ও সহায়তার কথা তুলে ধরলেও রতিয়াবাড়ির এই সেচ প্রকল্পের দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা সেই দাবির বাস্তব চিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। কৃষকদের অভিযোগ, প্রশাসনিক উদাসীনতা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবের কারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সম্পদ আজ কার্যত অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এলাকার সাধারণ কৃষকরা।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande