জোলাইবাড়িতে চুরি করতে গিয়ে ধরা দুই
জোলাইবাড়ি (ত্রিপুরা), ১৪ জুন (হি.স.) : দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার শান্তিরবাজার মহকুমাজুড়ে সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিক চুরির ঘটনায় আতঙ্কের পরিবেশের মধ্যে জোলাইবাড়ির মধ্যপিলাক এলাকায় চুরি করতে গিয়ে দুই অভিযুক্তকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দি
দুই যুবক গ্রেফতার


জোলাইবাড়ি (ত্রিপুরা), ১৪ জুন (হি.স.) : দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার শান্তিরবাজার মহকুমাজুড়ে সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিক চুরির ঘটনায় আতঙ্কের পরিবেশের মধ্যে জোলাইবাড়ির মধ্যপিলাক এলাকায় চুরি করতে গিয়ে দুই অভিযুক্তকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনায় একটি অটোরিকশা, গ্যাস সিলিন্ডার, রাবারসহ বিভিন্ন চোরাই সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত রয়েছে এবং তাদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার গভীর রাতে জোলাইবাড়ির মধ্যপিলাক এলাকার বাসিন্দা পুলক ভৌমিকের বাড়িতে চুরির উদ্দেশ্যে প্রবেশ করে একদল দুষ্কৃতী। বাড়ির মালিক বিষয়টি টের পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে এলাকার অপর যুবককে নিয়ে চোরদের পিছু ধাওয়া করেন। পরে রাত প্রায় আড়াইটার সময় জোলাইবাড়ি নাকা পয়েন্ট এলাকায় স্থানীয়দের সহযোগিতায় টি আর-০৮-বি-৩৩১৩ নম্বরের একটি অটোরিকশাসহ দুই সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন তুলামুড়া এলাকার বাসিন্দা বাপন পাল এবং বাইখোড়ার মথুলা সর্দারপাড়া এলাকার বাসিন্দা নয়ন দে। তাঁদের কাছ থেকে একটি গ্যাস সিলিন্ডার, রাবারসহ বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে, যা চুরির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।

রবিবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বাইখোড়া থানার ওসি বিষ্ণু দাস জানান, তদন্তে উঠে এসেছে যে একটি সংঘবদ্ধ চোরচক্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে রাতের অন্ধকারে মহকুমার বিভিন্ন এলাকায় চুরি করে আসছে। তিনি বলেন, গত ১৬ মে বাইখোড়া থানা এলাকা থেকে একটি মোটরসাইকেল চুরি করে চক্রের সদস্যরা সেটি ৬০ হাজার টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশে বিক্রি করে দেয় বলেও তথ্য পাওয়া গেছে।

ওসি আরও জানান, আটক দুই অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, এই চুরিচক্রের সঙ্গে বাইখোড়া এলাকার সজল মগসহ আরও কয়েকজন জড়িত রয়েছে। শনিবার রাতের চুরি শেষে জোলাইবাড়ির শালবাগান এলাকায় চোরাই মাল ভাগাভাগি করার পরিকল্পনা ছিল তাঁদের। তবে স্থানীয়দের তৎপরতায় সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।

পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে চুরি যাওয়া অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি এই চক্রের বাকি সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের লক্ষ্যে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হচ্ছে। তদন্তকারীদের আশা, খুব শীঘ্রই চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতার করে চুরি হওয়া অধিকাংশ সামগ্রী উদ্ধার করা সম্ভব হবে।

এ ঘটনায় বাইখোড়া থানায় ১২ নম্বর মামলায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। বর্তমানে আটক দুই অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করে চক্রের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছে পুলিশ।

স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বেড়ে চলা চুরির ঘটনায় সাধারণ মানুষ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন। শনিবার রাতের ঘটনায় দুই অভিযুক্ত ধরা পড়ায় কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও চক্রের বাকি সদস্যদের দ্রুত গ্রেফতার এবং চুরি যাওয়া সম্পত্তি উদ্ধারের দাবি তুলেছেন এলাকাবাসী।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande