
কলকাতা, ১৫ জুন (হি.স.): সন্দেশখালির বহু চর্চিত জমি দখল মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর বিশেষ আদালত সোমবার প্রধান অভিযুক্ত শাহজাহান শেখ এবং তার তিন সহযোগীর বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেছে। মামলার শুনানির সময় আদালতে এই চার্জ গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এবার এই মামলায় আগামী ৭ জুলাই থেকে সাক্ষীদের বয়ান নথিভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
ইডির দাবি, শাহজাহান শেখ এবং তার সহযোগীরা গ্রামবাসীদের ভয় দেখিয়ে ও চাপ সৃষ্টি করে বেআইনিভাবে জমি দখল করেছিল এবং তা থেকে আর্থিক সুবিধা পেয়েছিল। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এই মামলায় প্রায় ৫ কোটি টাকার বেআইনি আয়কে ‘অপরাধ থেকে লব্ধ অর্থ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
শাহজাহান শেখ ছাড়াও এই মামলায় আলমগীর, শিবপ্রসাদ হাজরা এবং দিদার বক্স মোল্লার বিরুদ্ধেও চার্জ গঠন করা হয়েছে। ইডি এই মামলায় মোট ৩০ জন সাক্ষীর তালিকা তৈরি করেছে, যাঁদের সাক্ষ্যগ্রহণ আগামী শুনানির দিনগুলিতে করা হবে।
রেশন বণ্টন দুর্নীতির তদন্ত চলাকালীন প্রথম শাহজাহান শেখের নাম সামনে আসে। ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে ইডির একটি দল যখন তার বাড়িতে তল্লাশি চালাতে যায়, তখন কেন্দ্রীয় সংস্থার আধিকারিকদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার পর বিষয়টি জাতীয় স্তরে শোরগোল ফেলে দেয়।
হামলার ঘটনার পর শাহজাহান শেখ গা-ঢাকা দেয়। প্রায় দু’মাস পলাতক থাকার পর পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে তাকে সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই)-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়। সিবিআই হেফাজতে থাকাকালীনই ইডি তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
শাহজাহান শেখের বিরুদ্ধে সন্দেশখালি এলাকায় গ্রামবাসীদের ওপর অত্যাচার, জোরপূর্বক জমি দখল, মৎস্য ব্যবসার আড়ালে দুর্নীতি এবং অন্যান্য একাধিক গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। গ্রেপ্তারি পর তৃণমূল কংগ্রেস তাকে ৬ বছরের জন্য দল থেকে বহিষ্কার করে।
আদালতে চার্জ গঠন হওয়ার পর এবার মামলার নিয়মিত শুনানি এবং সাক্ষ্যগ্রহণের পর্ব শুরু হতে চলেছে, যা সন্দেশখালি কাণ্ডের বিচারপ্রক্রিয়াকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি