ন্যাচারাল ফার্মিং ও অর্গানিক চাষে জোর, ডুকলি ব্লকে শুরু ‘ক্ষেত বাঁচাও’ অভিযান
আগরতলা (হি.স.), ১৫ জুন (হি.স.) : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আহ্বানে পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে এবং মাটির উর্বরতা রক্ষার লক্ষ্যে ত্রিপুরায় শুরু হয়েছে ‘ক্ষেত বাঁচাও’ অভিযান। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার ডুকলি কৃষি বিভাগের
মন্ত্রী রতন লাল নাথ


আগরতলা (হি.স.), ১৫ জুন (হি.স.) : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আহ্বানে পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে এবং মাটির উর্বরতা রক্ষার লক্ষ্যে ত্রিপুরায় শুরু হয়েছে ‘ক্ষেত বাঁচাও’ অভিযান। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার ডুকলি কৃষি বিভাগের উদ্যোগে প্রতাপগড়ের প্রিয়লাল স্মৃতি ভবনে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী রতনলাল নাথ, আগরতলা পুর নিগমের ডেপুটি মেয়র মনিকা দাস দত্ত, বিশিষ্ট কৃষি বিজ্ঞানী ডঃ গণেশ দাস, কৃষি দফতরের উপ-পরিচালক সঞ্জীব দেববর্মা সহ কৃষি দফতরের অন্যান্য আধিকারিক এবং এলাকার বহু কৃষক।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কৃষিমন্ত্রী রতনলাল নাথ বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গত ১২ বছরেরও বেশি সময় ধরে সফলভাবে দেশ পরিচালনা করছেন। তাঁর অন্যতম লক্ষ্য হলো ধরিত্রী মাতাকে রক্ষা করা এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের কৃষিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। সেই ভাবনা থেকেই সারা দেশে ‘ক্ষেত বাঁচাও’ অভিযান শুরু হয়েছে। ত্রিপুরাতেও ১ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত এক মাসব্যাপী এই কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

মন্ত্রী জানান, কৃষিক্ষেত্রে রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে প্রাকৃতিক ও জৈব পদ্ধতিতে চাষাবাদকে উৎসাহিত করাই এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য। বর্তমানে রাজ্যে প্রায় ২৬ হাজার হেক্টর জমিতে অর্গানিক বা জৈব চাষ শুরু হয়েছে এবং সেখান থেকে উৎপাদিত ফসল বাজারজাতও হচ্ছে। পাশাপাশি প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে ন্যাচারাল ফার্মিং বা প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ চলছে। চলতি বছরে আরও ১৬ হাজার হেক্টর জমিকে ন্যাচারাল ফার্মিংয়ের আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, “মাটি, জল ও পরিবেশকে সুস্থ রাখতে হলে কৃষকদের ধীরে ধীরে প্রাকৃতিক ও জৈব কৃষির দিকে এগিয়ে যেতে হবে। এর ফলে উৎপাদিত ফসল যেমন স্বাস্থ্যকর হবে, তেমনি কৃষি জমির উর্বরতাও দীর্ঘমেয়াদে বজায় থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, রাজ্যের অর্থনীতির মূল ভিত্তি কৃষি। কৃষকদের অবদান ছাড়া রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, রাজ্যের মোট আয়ের মধ্যে কৃষি খাতের অবদান প্রায় ৪৮ শতাংশের কাছাকাছি, যেখানে শিল্প খাতের অবদান মাত্র ৯ শতাংশ। বাকি অংশ আসে ব্যবসা-বাণিজ্য ও অন্যান্য ক্ষেত্র থেকে। ফলে কৃষির উন্নয়ন মানেই রাজ্যের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত কৃষি বিজ্ঞানীরা কৃষকদের উদ্দেশ্যে জৈব ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে চাষাবাদের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। কীভাবে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে গোবর, জৈব সার এবং প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করে অধিক ফলন পাওয়া যায়, সে বিষয়ে কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হয়।

কৃষি দফতরের কর্মকর্তারা জানান, ‘ক্ষেত বাঁচাও’ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যের প্রত্যন্ত এলাকাগুলিতেও কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো হবে। পাশাপাশি প্রাকৃতিক কৃষি পদ্ধতির সুফল সম্পর্কে তাঁদের অবহিত করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে আরও বেশি সংখ্যক কৃষক এই পদ্ধতিতে চাষাবাদের প্রতি আগ্রহী হন।

অনুষ্ঠান শেষে কৃষকদের মধ্যে বিভিন্ন তথ্যপত্র বিতরণ করা হয় এবং কৃষি উন্নয়ন সংক্রান্ত নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। রাজ্যের কৃষিকে আরও টেকসই ও পরিবেশবান্ধব করে তোলার লক্ষ্যে সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান উপস্থিত কৃষকরা।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande