
আগরতলা, ১৯ জুন (হি.স.) : শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজে মহিলা কর্মীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে ক্রমশ রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের দাবিতে শুক্রবার রাজপথে নামে প্রদেশ মহিলা কংগ্রেস। হাইকোর্টের কর্মরত বিচারপতিকে দিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবিতে তারা একটি বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করে।
এদিন দুপুরে আগরতলায় কংগ্রেস ভবনের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলের নেতৃত্ব দেন প্রদেশ মহিলা কংগ্রেস সভানেত্রী সর্বাণী ঘোষ চক্রবর্তী। বিপুল সংখ্যক মহিলা কর্মী ও সমর্থক এতে অংশ নেন। বিভিন্ন দাবি-সম্বলিত প্ল্যাকার্ড এবং স্লোগান নিয়ে মিছিলটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পরিক্রমা করে রাজ্য পুলিশের মহা নির্দেশকের (ডিজিপি) কার্যালয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। তবে নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছানোর আগেই পুলিশ মিছিলের গতি রোধ করে। ফলে কিছু সময়ের জন্য সেখানে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও পুলিশের তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকে।
মিছিল শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সর্বাণী ঘোষ চক্রবর্তী বলেন, “গোটা রাজ্যে নারী নির্যাতন, ধর্ষণ ও গণধর্ষণের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজের ঘটনাও তারই একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। আমরা মনে করি, এটি একটি রহস্যজনক মৃত্যু এবং এর পিছনে বড় ধরনের অপরাধমূলক ঘটনা লুকিয়ে থাকতে পারে। কিন্তু ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আগেই জনৈক পুলিশ আধিকারিক এবং রাজ্য মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন বিষয়টিকে আত্মহত্যা বলে প্রচার করার চেষ্টা করেছেন, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, একটি সম্ভাব্য খুনের ঘটনাকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা চলছে। রাজ্য সরকার ইতিমধ্যে ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিলেও সেই তদন্তের ওপর তাঁদের কোনও আস্থা নেই বলেও জানান তিনি। সর্বাণী ঘোষ চক্রবর্তীর দাবি, অতীতের একাধিক নারী নির্যাতন ও রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্ত হলেও তার রিপোর্ট আজ পর্যন্ত জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি।
মহিলা কংগ্রেস সভানেত্রীর বক্তব্য, “আমরা চাই হাইকোর্টের একজন কর্মরত বিচারপতির তত্ত্বাবধানে বিচার বিভাগীয় তদন্ত হোক। তবেই ঘটনার প্রকৃত সত্য সামনে আসবে এবং দোষীরা আইনের আওতায় আসবে। সেই দাবিতেই আজকের এই বিক্ষোভ কর্মসূচি।”
তিনি জানান, সংগঠনের পক্ষ থেকে ডিজিপি-র সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার পরিকল্পনা ছিল। তবে পুলিশি বাধার কারণে সেই উদ্যোগ সফল হয়নি।
এদিকে, বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শহরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। পুলিশের বিপুল সংখ্যক কর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখা হয়। কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা বিশৃঙ্খলা এড়াতে পুলিশ সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। বিভিন্ন মহলের মতে, পুলিশের অতিরিক্ত সতর্কতা ও তৎপরতার কারণেই কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজের ওই মহিলা কর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় এখনও রহস্য কাটেনি। ঘটনার তদন্ত নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর অব্যাহত থাকায় আগামী দিনে বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ