




শিলং, ২০ জুন (হি.স.) : মেঘালয়ের পশ্চিম জয়ন্তিয়াপাহাড় জেলার অন্তর্গত লারনাই গ্রামে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যবাহী স্থান পরিদর্শন, জিআই ট্যাগপ্রাপ্ত লারনাই ব্ল্যাক ক্লে পটারি তৈরির সরাসরি প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ এবং শ্রী মা জয়ন্তী মন্দির ও নর্তিয়াং মেগালিথ ঐতিহ্যস্থল পরিদর্শন করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থ ও কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। এছাড়া তিনি ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পীদের সঙ্গে মতবিনিময়ও করেছেন।
মেঘালয় সফরের আজ শনিবার দ্বিতীয় দিন কেন্দ্রীয় অর্থ ও কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ পশ্চিম জয়ন্তিয়াপাহাড় জেলার লারনাই গ্রাম পরিদর্শন করে রাজ্যের বিখ্যাত জিআই ট্যাগপ্রাপ্ত কালো মাটির পাত্র তৈরির ঐতিহ্য সংরক্ষণকারী কারুশিল্পীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। মেঘালয়ের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক, আধ্যাত্মিক ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্যমণ্ডিত শ্রী মা জয়ন্তী মন্দির ও নর্তিয়াং ঐতিহ্য কমপ্লেক্সও পরিদর্শন করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী।
লারনাই গ্রামে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণকে অনন্য কালো মাটির পাত্র তৈরির কারুশিল্প সম্পর্কে অবহিত করা হয়। এই শিল্প প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসছে এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক পরিচয় ও জীবিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে রয়েছে। লারনাইয়ের কালো মাটির পাত্র, যার স্বতন্ত্র কালো রং ও হাতে তৈরি করার বিশেষ পদ্ধতির জন্য পরিচিত, তার অনন্যতা ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বের কারণে জিআই ট্যাগের স্বীকৃতি পেয়েছে।
কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী কারুশিল্পী ও মৃৎশিল্পীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প সংরক্ষণ ও প্রসারের জন্য তাঁদের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, কালো মাটির পাত্র তৈরির মতো স্থানীয় জ্ঞান ও ঐতিহ্যবাহী দক্ষতা মূল্যবান সাংস্কৃতিক সম্পদ, যা স্থানীয় জীবিকা শক্তিশালী করার পাশাপাশি ভারতের সমৃদ্ধ কারুশিল্প ঐতিহ্যকে আরও এগিয়ে নিয়ে যায়।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সফরকালে মাটির পাত্র তৈরির প্রক্রিয়ার সরাসরি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এতে মাটি প্রস্তুত করা, হাতে আকার দেওয়া এবং নকশা খোদাই করার বিভিন্ন ধাপ তুলে ধরা হয়। প্রদর্শনীর সময় অর্থমন্ত্রী সীতারমণ কারুশিল্পীদের সঙ্গে বসে তাঁদের দক্ষ নির্দেশনায় নিজেও মাটি দিয়ে পাত্র তৈরির চেষ্টা করেন। এই অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তিনি ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প তৈরির কাজে প্রয়োজনীয় ধৈর্য, নিখুঁত দক্ষতা ও শিল্পসত্তার প্রত্যক্ষ উপলব্ধি লাভ করেন। কারুশিল্পীদের এই অনন্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধরে রাখা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জ্ঞান ও দক্ষতা পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রশংসা করেন তিনি।
কারুশিল্পীরা তাঁদের ঐতিহ্যবাহী শিল্প টিকিয়ে রাখার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তাঁদের পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের জন্য চলমান প্রচেষ্টার কথা জানান। মতবিনিময়ে ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পীদের সহায়তা এবং স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হস্তশিল্পকে উৎসাহিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেছে, যা গ্রামীণ জীবিকা শক্তিশালী করা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ।
এর আগে নিৰ্মলা সীতারমণ শ্রী মা জয়ন্তী মন্দির পরিদর্শন করে প্রার্থনা করেন। প্রায় ৬০০ বছরের বেশি পুরনো বলে বিশ্বাসকৃত এই মন্দিরটি ৫১টি শক্তিপীঠের অন্যতম হিসেবে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে বিবেচিত হয়। এর ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম। মন্দিরটি মেঘালয়ের সমৃদ্ধ আধ্যাত্মিক, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের প্রতীক এবং সারা দেশ থেকে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে।
পরবর্তীতে কেন্দ্ৰীয় অৰ্থমন্ত্ৰী সীতারমঁ নর্তিয়াং মেগালিথ পরিদর্শন করেন, যা উত্তরপূর্ব ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মেগালিথিক ঐতিহ্যস্থল। সেখানে তিনি মেঘালয়ের জিআই ট্যাগপ্রাপ্ত পণ্যগুলির একটি প্রদর্শনীও ঘুরে দেখেন। প্রদর্শনীতে খাসি ম্যান্ডারিন, মেমং নারাং, লাকাডং হলুদ, গারো টেক্সটাইল, লারনাই কালো মাটির পাত্র এবং মেঘালয় চুবিচি-সহ বিভিন্ন পণ্য প্রদর্শিত হয়।
তিনি প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী কারুশিল্পী, তাঁতি, কৃষক ও উৎপাদক গোষ্ঠীর সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং পণ্যগুলির বিশেষ বৈশিষ্ট্য, ঐতিহ্যবাহী উৎপাদন পদ্ধতি ও ক্রমবর্ধমান বাজার সম্ভাবনা সম্পর্কে অবহিত হয়েছেন। তাঁদের নিষ্ঠা, দক্ষতা ও উদ্যোগী মনোভাবের প্রশংসা করে তিনি বলেন, তাঁরা মেঘালয়ের অনন্য সাংস্কৃতিক ও কৃষি ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য টেকসই জীবিকার সুযোগ তৈরি করছেন।
সীতারমণকে নর্তিয়াং মেগালিথের ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং তদানীন্তন জয়ন্তিয়া রাজ্যের ঐতিহ্য সংরক্ষণে এর ভূমিকা সম্পর্কেও অবহিত করা হয়। জয়ন্তিয়া রাজাদের শাসনকালে স্থাপিত অসংখ্য মেগালিথ নিয়ে গঠিত এই স্থানটি জয়ন্তিয়া জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য, সামাজিক রীতি ও স্থাপত্য সংস্কৃতির প্রতিফলন ঘটায় এবং মেঘালয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত।
লারনাই গ্রাম, শ্রী মা জয়ন্তী মন্দির এবং নর্তিয়াং ঐতিহ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনের মাধ্যমে মেঘালয়ের প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, স্থানীয় কারুশিল্প, কৃষি দক্ষতা, আধ্যাত্মিক উত্তরাধিকার ও সমৃদ্ধ ইতিহাসের প্রতিফলন ঘটে। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রাজ্যের এই অনন্য সাংস্কৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ ও প্রচারের গুরুত্ব রয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস