



- মেঘালয়ে প্রায় ৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত জেএনকেকে সড়ক উদ্বোধন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সীতারমণের
জোয়াই (মেঘালয়), ২০ জুন (হি.স.) : সুস্থ চিন্তাভাবনা, সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহার করতে যুবসমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় অর্থ ও কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আজ শনিবার মেঘালয়ের পশ্চিম জয়ন্তিয়া পাহাড় জেলার অন্তর্গত ওয়াহিয়াজের ফুটবল স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জোয়াই-নার্টিয়াং-কদিয়াপ-খান্দুলি (জেএনকেকে) সড়কের উদ্বোধন করে উপস্থিত তরুণ-তরুণীদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এই আহ্বান জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা।
নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় নির্মিত এই সড়ক প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় হয়েছে ৫৯ কোটি টাকার বেশি। সড়কটি অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে, বাজার ও প্রয়োজনীয় পরিষেবাগুলিতে মানুষের সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করবে এবং পশ্চিম জয়ন্তিয়া পাহাড় জেলার মানুষের জীবিকা উন্নয়নে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। উন্নত সড়ক যোগাযোগ অর্থনৈতিক কার্যকলাপ বৃদ্ধি করবে এবং স্থানীয় মানুষের যাতায়াত আরও সহজ করবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে নির্মলা সীতারমণ উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করা এবং দেশের প্রত্যন্ত ও সীমান্তবর্তী এলাকা সহ প্রতিটি অঞ্চলে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে উন্নত মানের পরিকাঠামোর গুরুত্ব তুলে ধরেন।
কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী ওয়াহিয়াজের ফুটবল স্টেডিয়ামে জোয়াইয়ের কিয়াং নাংবাহ সরকারি কলেজের ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং সম্মানীয় স্বাধীনতা সংগ্রামী উ কিয়াং নাংবাহের নামে নামাঙ্কিত এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি জয়ন্তিয়া পাহাড় অঞ্চলে উচ্চশিক্ষার প্রসার এবং তরুণ প্রতিভা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
মতবিনিময় করতে গিয়ে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী সীতারমণ যুব সমাজ, শিক্ষা, প্রযুক্তি, কর্মজীবনের লক্ষ্য এবং দেশ গঠনে তরুণদের ভূমিকা নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করেছেন। ছাত্রছাত্রীরা উচ্চশিক্ষা, কর্মসংস্থানের সুযোগ, আর্থিক সচেতনতা, উদ্যোগপতি হওয়ার সম্ভাবনা এবং ভারতের ভবিষ্যৎ গঠনে যুবসমাজের ভূমিকা নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।
ছাত্রছাত্রীদের উৎসাহিত করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তাঁদের সবসময় কৌতূহলী, আত্মবিশ্বাসী এবং নিরন্তর শেখার মানসিকতা বজায় রাখতে হবে বলে পরামর্শ দিয়েছেন। ডিজিটাল যুগের সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে বলতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তথ্য এখন খুব সহজে পাওয়া গেলেও অতিরিক্ত এবং যাচাই না করা তথ্য অনেক সময় বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। তাই তরুণদের প্রযুক্তি ব্যবহারে সংযমী ও দায়িত্বশীল হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
পরে অর্থমন্ত্রী ওয়াহিয়াজের ফুটবল স্টেডিয়ামে স্কুলের ছাত্রছাত্রী ও ক্রীড়াবিদদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন। তিনি বলেন, এই স্টেডিয়াম একটি উন্নতমানের জনসম্পদ, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের তরুণ ক্রীড়াবিদদের স্বপ্ন পূরণে সহায়ক হবে।
ওয়াহিয়াজের ফুটবল স্টেডিয়ামটি অর্থ মন্ত্রকের ‘রাজ্যগুলিকে মূলধনী বিনিয়োগের জন্য বিশেষ সহায়তা’ (এসএএসসিআই প্রকল্পের অধীনে ৬৫ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যগুলিকে মূলধনী বিনিয়োগের জন্য ৫০ বছরের সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া হয়।
১৬ একর এলাকাজুড়ে নির্মিত এই ক্রীড়া কমপ্লেক্সটি উত্তরপূর্ব ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রীড়া কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে। এখানে আধুনিক প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতার সুযোগ থাকায় তরুণ খেলোয়াড়রা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।
প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সুষম ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের ভাবনাকে প্রতিফলিত করে। এর লক্ষ্য হলো, দেশের প্রতিটি অঞ্চলে আধুনিক পরিকাঠামো পৌঁছে দিয়ে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা।
স্টেডিয়ামটি আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী তৈরি করা হয়েছে। ফুটবল মাঠটি অ্যাথলেটিক্স ট্র্যাকের ভিতরে অবস্থিত এবং উভয় ক্ষেত্রই ফিফা এবং ওয়ার্লড অ্যাথলেটিক্স-এর মানদণ্ড পূরণ করে। এখানে রয়েছে সিন্থেটিক ফুটবল টার্ফ, আট লেনের ৪০০ মিটার বিশ্বমানের সিন্থেটিক ট্র্যাক, ১০০ মিটার দৌড়ের ট্র্যাক এবং দর্শকদের জন্য আসন ব্যবস্থা। এছাড়া রয়েছে লং জাম্প, ট্রিপল জাম্প, পোল ভল্ট, স্টিপলচেজ, জ্যাভলিন থ্রো, শট পুট এবং ডিসকাস থ্রো-এর মতো ইভেন্টের জন্য পৃথক সুবিধা।
৬ হাজারের বেশি দর্শক-আসন ক্ষমতাসম্পন্ন এই স্টেডিয়ামটি মেঘালয় তথা সমগ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রীড়া কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে এবং যুবসমাজের মধ্যে ক্রীড়া সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী করবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস