
রাঁচি, ২০ জুন (হি.স.) : ঝাড়খণ্ডজুড়ে তীব্র গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়ায় জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত। রাজধানী রাঁচি-সহ অধিকাংশ জেলায় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় ভ্যাপসা গরমে নাজেহাল মানুষ।
এরই মধ্যে শনিবার স্বস্তির ইঙ্গিত দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। আগামী ২৬ জুন পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বজ্র-বিদ্যুৎ সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও বজ্রপাত এবং ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের জন্য জারি করা হয়েছে হলুদ সতর্কতা । খারাপ আবহাওয়ার সময় খোলা জায়গায় না থাকার পরামর্শ দিয়েছে দফতর।
গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যের সর্বাধিক ৮৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে পালামৌ জেলার লেসলিগঞ্জে। তবে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পরও অধিকাংশ এলাকায় গরম ও আর্দ্রতার দাপট কমেনি।
তাপমাত্রার নিরিখে গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ডালটনগঞ্জে—৪০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল লাতেহারে, ২০.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
শনিবার সকালে রাঁচি ও সংলগ্ন এলাকায় আকাশ পরিষ্কার থাকলেও তীব্র রোদ ও ভ্যাপসা গরমে সকাল থেকেই অস্বস্তি বাড়ে। গত ২৪ ঘণ্টায় রাঁচিতে সর্বোচ্চ আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৮৯ শতাংশ। আবহ বিদদের মতে, উচ্চ আর্দ্রতা ও তাপমাত্রার যৌথ প্রভাবে প্রকৃত তাপমাত্রার তুলনায় অনেক বেশি গরম অনুভূত হচ্ছে।
শনিবার রাঁচিতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩১.৬ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন ২৪.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। জামশেদপুরে সর্বোচ্চ ৩৪ ও সর্বনিম্ন ২৬ ডিগ্রি, ডালটনগঞ্জে সর্বোচ্চ ৪১ ও সর্বনিম্ন ২২ ডিগ্রি, বোকারোতে সর্বোচ্চ ৩৬.৫ ও সর্বনিম্ন ২৭.১ ডিগ্রি এবং চাইবাসায় সর্বোচ্চ ৩০.৪ ও সর্বনিম্ন ২৪.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছে।
আবহাওয়া দফতরের মতে, বঙ্গোপসাগর থেকে আসা আর্দ্রতাপূর্ণ বায়ু এবং স্থানীয় আবহাওয়াগত পরিস্থিতির প্রভাবে আগামী কয়েক দিনে ঝাড়খণ্ডের বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে। বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ, গাছের নীচে বা উঁচু স্থানে আশ্রয় না নেওয়ার পাশাপাশি সরকারি আবহাওয়া সতর্কতা মেনে চলার আবেদন জানানো হয়েছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য