
আগরতলা, ২২ জুন (হি.স.) : ত্রিপুরার ২৯টি সরকারি ডিগ্রি কলেজে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক স্তরের ভর্তি প্রক্রিয়া সোমবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। প্রথম দফার ভর্তি কার্যক্রম ঘিরে রাজধানী আগরতলায় বিভিন্ন কলেজে নবাগত ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে মহিলা মহাবিদ্যালয় (উইমেন্স কলেজ) এবং মহারাজা বীর বিক্রম (এমবিবি) কলেজে সকাল থেকেই ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
উচ্চশিক্ষা দফতরের প্রকাশিত মেধা তালিকার ভিত্তিতে এদিন ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হয়। ভর্তি সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই, ফি জমা এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্র-ছাত্রীদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও ভিড় দেখা যায়। কলেজ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ছাত্রছাত্রীদের সুবিধার্থে বিশেষ সহায়তা কেন্দ্র খোলা হয় এবং সুষ্ঠুভাবে ভর্তি প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
এবারের ভর্তি প্রক্রিয়ায় একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন হলো নলছড় সরকারি মহিলা ডিগ্রি কলেজ। প্রথমবারের মতো এই কলেজকেও রাজ্যের কেন্দ্রীভূত ভর্তি ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে। ফলে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে বলে মনে করছেন শিক্ষা মহলের একাংশ।
উচ্চশিক্ষা দফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের অধীনে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় মোট ২৮ হাজার ৯৬৭ জন ছাত্র-ছাত্রী উত্তীর্ণ হয়েছে। সেই তুলনায় সরকারি ডিগ্রি কলেজগুলিতে পর্যাপ্ত সংখ্যক আসন উপলব্ধ রয়েছে। ফলে অধিকাংশ সফল পরীক্ষার্থী উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সুযোগ পাবেন বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে রাজ্যের সরকারি ডিগ্রি কলেজগুলিতে মোট আসন সংখ্যা ছিল ৩১ হাজার ৯৫৪টি। নতুন কলেজ এবং বিভিন্ন নতুন কোর্স চালুর ফলে চলতি শিক্ষাবর্ষে অতিরিক্ত ২০৫টি আসন বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে মোট আসন সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ১৫৯টি।
শিক্ষা দফতরের কর্মকর্তারা জানান, পর্যায়ক্রমে প্রকাশিত মেধা তালিকার ভিত্তিতে একাধিক ধাপে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। যেসব আসন প্রথম দফায় পূরণ হবে না, সেগুলির জন্য পরবর্তী পর্যায়ে নতুন তালিকা প্রকাশ করা হবে। ভর্তি প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও অনলাইনভিত্তিক করার উদ্যোগের ফলে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি অনেকটাই কমেছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
এদিকে কলেজে ভর্তির প্রথম দিনেই নবীন ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে উচ্চশিক্ষা জীবন শুরু করার উচ্ছ্বাস স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। অনেকেই পছন্দের বিষয় ও কলেজে সুযোগ পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অভিভাবকদের একাংশও রাজ্যের সরকারি কলেজগুলিতে আসন বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।
সব মিলিয়ে নতুন শিক্ষাবর্ষের ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার মধ্য দিয়ে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। পর্যাপ্ত আসন, নতুন কলেজের অন্তর্ভুক্তি এবং সম্প্রসারিত শিক্ষার সুযোগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ পরিলক্ষিত হয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ