
আগরতলা, ২২ জুন (হি.স.) : সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল গজারিয়া পশ্চিমপাড়া মসজিদের ইমাম নোমান উদ্দিনের। রবিবার গভীর রাতে বিশালগড় থেকে আগরতলায় ফেরার পথে সেকেরকোট এলাকায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন তিনি। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকালে জিবিপি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে গজারিয়া এলাকায় এবং ধর্মীয় মহলেও।
জানা গেছে, রবিবার রাতে একটি মারুতি ভ্যানে করে বিশালগড় গিয়েছিলেন ইমাম নোমান উদ্দিন। রাত প্রায় সাড়ে ১২টা নাগাদ তিনি আগরতলার উদ্দেশ্যে ফিরছিলেন। সেই সময় সেকেরকোট এলাকায় গাড়িটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গাড়ির চালক দীর্ঘক্ষণ গাড়ি চালানোর ফলে তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়েন। হঠাৎ ঘুম ভাঙার পর রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাককে পাশ কাটানোর চেষ্টা করলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আমতলি থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুরুতর আহত নোমান উদ্দিনকে উদ্ধার করে জিবিপি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকাল প্রায় ৭টা নাগাদ তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
এদিকে, সোমবার জিবিপি হাসপাতালের মর্গের সামনে উপস্থিত গজারিয়া এলাকার জনৈক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, দুর্ঘটনার পর হাসপাতালে নিয়ে আসা হলেও রবিবার গভীর রাতে আহত ইমাম যথাযথ চিকিৎসা পরিষেবা পাননি। তাঁর দাবি, সময়মতো উন্নত চিকিৎসা পেলে হয়তো প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হতো। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
মৃত নোমান উদ্দিনের বাড়ি প্রতিবেশী রাজ্য অসমের পাথারকান্দিতে। গত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি গজারিয়া পশ্চিমপাড়া মসজিদে ইমামের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে তাঁর সক্রিয় ভূমিকার জন্য এলাকাবাসীর কাছে তিনি অত্যন্ত সম্মানিত ছিলেন। তাঁর অকাল প্রয়াণে এলাকায় গভীর শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার জিবিপি হাসপাতালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহ পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরে মরদেহ অসমের পাথারকান্দিতে তাঁর নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পারিবারিক ও ধর্মীয় রীতি মেনে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে বলে জানা গেছে।
ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে এটি একটি দুর্ঘটনা বলেই মনে করা হলেও দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে গভীর রাতে দীর্ঘক্ষণ গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে চালকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ