অরুণাচলে হড়কা বান, নদীর জলস্তর বৃদ্ধির আশঙ্কায় অসমে জারি সতর্কতা
গুয়াহাটি, ২৪ জুন (হি.স.) : অরুণাচল প্রদেশের কেয়ি পানিয়র এবং লোয়ার সুবনশিরি জেলায় প্রবল বৃষ্টিপাতজনিত আকস্মিক বন্যার ফলে নদীর জলপ্রবাহ হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় অসমে বন্যা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রাজ্যের একাধিক জেলায় এর
অরুণাচল প্রদেশের কেয়ি পানিয়র জেলায় আকস্মিক বন্যা


গুয়াহাটি, ২৪ জুন (হি.স.) : অরুণাচল প্রদেশের কেয়ি পানিয়র এবং লোয়ার সুবনশিরি জেলায় প্রবল বৃষ্টিপাতজনিত আকস্মিক বন্যার ফলে নদীর জলপ্রবাহ হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় অসমে বন্যা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রাজ্যের একাধিক জেলায় এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে রাজ্য প্রশাসন।

সরকারি তথ্যে প্রকাশ, গত ২৪ ঘণ্টায় লোয়ার সুবনশিরি জেলার ইয়াজালিতে ৭২.৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আজ ২৪ জুন সকাল ৬-টা থেকে ৯-টার মধ্যে সর্বাধিক বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মূল্যায়ন অনুসারে, সকাল ৬-টা থেকে ৭-টা ৩০ মিনিটের মধ্যে মুষলধারে বৃষ্টিপাতের ফলে আকস্মিক বন্যা এবং উজান অঞ্চলে নদীর জলপ্রবাহে হঠাৎ বৃদ্ধি ঘটে।

সৃষ্ট বন্যার প্রভাব পড়েছে পানিয়র লোয়ার জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকায়, যা পূর্বে রঙানদী জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নামে পরিচিত ছিল। জলাধারে অতিরিক্ত জলপ্রবাহের ফলে কর্তৃপক্ষ একটি স্পিলওয়ে গেট খুলে অতিরিক্ত জল ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন। ইয়াজালি থেকে জারিকৃত বুলেটিনে বন্যার জল এবং ধ্বংসাবশেষের প্রবাহে বহু বাড়িঘর ও পরিকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাজ্য প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছেন, উজান অঞ্চলে নদীর জলপ্রবাহ বাড়ায় অসমে ব্রহ্মপুত্র এবং তার উপনদীগুলোর জলস্তর ও স্রোতের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। বন্যার ঢেউ প্রথমে ধেমাজি, লখিমপুর, বিশ্বনাথ এবং শোণিতপুর জেলায় আঘাত হানতে পারে। পরে তা নিম্ন অসমের ধুবড়ি জেলার দিকে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অসম সরকার ঝুঁকিপূর্ণ জেলার প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকতে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এসডিআরএফ) এবং জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ)-কে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

নিম্নাঞ্চল ও বন্যাপ্রবণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্কতা অবলম্বন করে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, নদীর স্রোত অত্যন্ত তীব্র হয়ে উঠতে পারে বলে জলমগ্ন এলাকায় প্রবেশ না করা এবং ছোট নৌকায় যাতায়াত থেকে বিরত থাকার জন্যও সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেছে রাজ্য প্রশাসন।

হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস




 

 rajesh pande