
চেন্নাই, ২৪ জুন (হি.স.) : মানবিকতার নজির গড়লেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয়। বুধবার রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতরে নির্বাচিত ৪০১ জন প্রার্থীর হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার অনুষ্ঠানে এক পূর্ণগর্ভবতী মহিলার সুবিধার কথা বিবেচনা করে নিজেই মঞ্চ থেকে নেমে তাঁর হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। এই দৃশ্য মুহূর্তের মধ্যেই উপস্থিত সকলকে আবেগাপ্লুত করে তোলে।
সরকারি চাকরিতে নির্বাচিতদের মধ্যে ছিলেন অক্ষয়লক্ষ্মী নামে এক মহিলা, যিনি গর্ভাবস্থার শেষ পর্যায়ে রয়েছেন। আগামী ২৮ জুন তাঁর সম্ভাব্য প্রসবের তারিখ। শারীরিক অসুবিধা সত্ত্বেও বহুদিনের স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন।
এক এক করে নির্বাচিত প্রার্থীদের মঞ্চে ডেকে নিয়োগপত্র দেওয়া হচ্ছিল। সেই সময় অক্ষয়লক্ষ্মীর শারীরিক অবস্থার দিকে নজর যায় মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের। তিনি সঙ্গে সঙ্গে নির্দেশ দেন, যাতে তাঁকে সিঁড়ি ভেঙে মঞ্চে উঠতে না হয়। এরপর সমস্ত প্রোটোকল ভেঙে নিজেই মঞ্চ থেকে নেমে তাঁর আসনের কাছে পৌঁছে হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন।
নিয়োগপত্র গ্রহণের সময় আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন অক্ষয়লক্ষ্মী। মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে নতুন দায়িত্বের জন্য শুভেচ্ছা জানান এবং অনাগত সন্তানের সুস্বাস্থ্য ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।
এই দৃশ্য দেখে অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যান্য প্রার্থী, সরকারি আধিকারিক এবং অতিথিরাও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। অনেকেই মুখ্যমন্ত্রীর এই উদ্যোগকে নারীর প্রতি সম্মান, সংবেদনশীলতা ও জনমুখী প্রশাসনের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বলে উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, তামিলনাড়ু সরকার নারীর শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও ক্ষমতায়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। মাতৃত্বের দ্বারপ্রান্তে থাকা এক মহিলার কর্মজীবনের নতুন সূচনাকে এভাবে সম্মান জানানো সেই অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন।
এদিন অক্ষয়লক্ষ্মী ছাড়াও লোকারাজন, ভূমুগাই, মার্টিন, জেনিফা শেরিন, অরুণ কুমার, ভরত বরুণ, খাদিজা পারভিন, উষা ও সুকন্যাসহ মোট ৪০১ জন নির্বাচিত প্রার্থীর হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। সকল নবনিযুক্ত কর্মীকে সততা, নিষ্ঠা ও জনসেবার মানসিকতা নিয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের এই মানবিক পদক্ষেপ ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে। অনেকের মতে, প্রশাসনিক প্রোটোকলের ঊর্ধ্বে উঠে এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলার মর্যাদা ও সুবিধাকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রকৃত অর্থেই সংবেদনশীল ও জনকল্যাণমুখী শাসনের পরিচয় বহন করে। ঘটনাটি শুধু অক্ষয়লক্ষ্মীর জীবনেই স্মরণীয় হয়ে থাকবে না, বরং উপস্থিত শত শত মানুষের কাছেও এক অনুপ্রেরণার মুহূর্ত হয়ে থাকবে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য