
কলকাতা, ২৪ জুন (হি.স.): তারাতলা এলাকায় একটি নির্মীয়মাণ গোডাউন ভেঙে পড়ে বুধবার এক ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে বহু শ্রমিকের আটকে পড়ার আশঙ্কায় বর্তমানে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, ধ্বংসস্তূপ থেকে এখনও পর্যন্ত ১৩ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে আটজনকে তড়িঘড়ি এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তিনজনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। বাকি পাঁচজন বর্তমানে ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল।
প্রাণহানি এড়াতে এবং আহত শ্রমিকদের চিকিৎসায় যাতে সময় নষ্ট না হয়, তার জন্য দুর্ঘটনাস্থলেই হাজির করা হয়েছে চিকিৎসকদের একটি বিশেষ দল। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই যাতে আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসাটুকু শুরু করা যায়, তার জন্য এই ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারের পর দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার জন্য ঘটনাস্থলে একের পর এক অ্যাম্বুল্যান্স এসে পৌঁছাচ্ছে। উদ্ধার কাজে সহায়তার জন্য সেনার অ্যাম্বুল্যান্সও এসে পৌঁছেছে।
ধ্বংসস্তূপের ভিতরে এখনও প্রচুর মানুষ আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তারাতলায় ভেঙে পড়া ভারী লোহার বিমগুলো দ্রুত সরানোর জন্য ঘটনাস্থলে ক্রেন আনা হয়েছে। সেই সঙ্গে ক্রেনের পাশাপাশি আনা হয়েছে ড্রিলিং মেশিনও। নিখোঁজ ও চাপা পড়া মানুষদের উদ্ধার করতে উল্লম্বভাবেসুড়ঙ্গ খোঁড়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।
এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে এসেছেন সেখানে কর্মরত শ্রমিকদের আত্মীয়-পরিজনরা। ধ্বংসস্তূপের বাইরে থেকে চিৎকার করে তাঁরা ভিতরে আটকে থাকা প্রিয়জনদের সাড়া পাওয়ার আকুল চেষ্টা চালাচ্ছেন। গোটা এলাকায় কান্নার রোল ও চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়েই দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছান পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে। তাঁরা দুজনেই উদ্ধারকাজের তদারকি করছেন।
অন্যদিকে নবান্ন সূত্রের খবর, গোটা পরিস্থিতির ওপরে কড়া নজর রাখছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পুলিশ এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে। নবান্নে খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি