(আপডেট) জরুরি অবস্থা শিখিয়েছে, গণতন্ত্র রক্ষার জন্য সমাজের সতর্ক থাকা জরুরি: সুনীল আম্বেকর
– স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের জয়ের প্রতীক হলো জরুরি অবস্থা বিরোধী সংগ্রাম: সুনীল আম্বেকর – হিন্দুস্থান সমাচার-এর অনুষ্ঠানে বললেন সংঘের অখিল ভারতীয় প্রচার প্রমুখ – বলেন, ১৯ মাসে জরুরি অবস্থার অবসান ভারতীয় সমাজের গণতান্ত্রিক চেতনার জয় ছিল
সুনীল আম্বেকর


– স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের জয়ের প্রতীক হলো জরুরি অবস্থা বিরোধী সংগ্রাম: সুনীল আম্বেকর

– হিন্দুস্থান সমাচার-এর অনুষ্ঠানে বললেন সংঘের অখিল ভারতীয় প্রচার প্রমুখ

– বলেন, ১৯ মাসে জরুরি অবস্থার অবসান ভারতীয় সমাজের গণতান্ত্রিক চেতনার জয় ছিল

– গণতন্ত্র, সংবিধান এবং নাগরিক স্বাধীনতার রক্ষার সংগ্রামকে জাতীয় দায়িত্ব বলে অভিহিত করেন

পাটনা, ২৪ জুন (হি.স.): রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)–এর অখিল ভারতীয় প্রচার প্রমুখ সুনীল আম্বেকর মনে করেন যে, জরুরি অবস্থার ৫০ বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও, তার প্রাসঙ্গিকতা আজও বজায় রয়েছে। গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংবিধান, ভারতীয় সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য সেই সংগ্রামের সর্বদা স্মরণ প্রয়োজন। তিনি বলেন, সমাজে সবসময় এমন শক্তি থাকা উচিত যা স্বৈরাচারী প্রবণতাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

হিন্দুস্থান সমাচার-এর পক্ষ থেকে পাটনার মিঠাপুর ইনস্টিটিউশনাল এরিয়ায় বুধবার আয়োজিত ‘জরুরি অবস্থার ৫০ বছর: বিহার আন্দোলন এবং জরুরি অবস্থা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সুনীল আম্বেকর বলেন, জরুরি অবস্থা শুধুমাত্র ইতিহাসের একটি অধ্যায় নয়, বরং গণতন্ত্র রক্ষার জন্য সমাজের সচেতনতার সবচেয়ে বড় উদাহরণ। আগামী প্রজন্মকে সেই সময়ের সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের সঙ্গে পরিচিত করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ কোনও রাজনৈতিক দল ছিল না, তা সত্ত্বেও জরুরি অবস্থার সময় এটিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। স্বাধীনতার পর থেকেই কিছু রাজনৈতিক শক্তি আরএসএস-কে নিজেদের প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করত এবং এটিকে নির্মূল করার মানসিকতা আগে থেকেই ছিল। তাঁর মতে, সংঘের ওপর নিষেধাজ্ঞা কেবল প্রশাসনিক কারণে নয়, বরং রাজনৈতিক কারণে আরোপ করা হয়েছিল। তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে স্বৈরাচার দশকব্যাপী চলেছিল, কিন্তু ভারতে সমাজের সচেতনতা এবং গণতান্ত্রিক চেতনার কারণে মাত্র ১৯ মাসের মধ্যে জরুরি অবস্থার অবসান ঘটেছিল। বড় বড় রাজনৈতিক নেতারা জেলে থাকা সত্ত্বেও সংঘের কার্যকর্তা এবং গণতন্ত্রর পক্ষে থাকা নাগরিকরা সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। এই কারণেই গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়েছিল।

তিনি বলেন, সমাজ যদি সচেতন না হতো, তাহলে ভারতেও দীর্ঘ সময় ধরে একনায়কতন্ত্রের অধীনে চলে যেতে পারত। আম্বেকর আরও বলেন যে, সংঘের সংগ্রাম ক্ষমতা লাভ বা কেবল সংঘের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য ছিল না, বরং সংবিধান, গণতন্ত্র এবং নাগরিক স্বাধীনতা রক্ষার জন্য ছিল। এটি ক্ষমতার পরিবর্তনের নয়, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে বাঁচানোর সংগ্রাম ছিল। তিনি বলেন, ভারত একনায়কতন্ত্রের দিকে যাবে নাকি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে এগিয়ে যাবে, এটি নির্ধারণ করার সংগ্রাম ছিল। তিনি ভারতীয় সংবিধানের মূল্যবোধকে ভারতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত বলে বর্ণনা করেন। বলেন, স্বাধীনতা, সাম্য এবং ভ্রাতৃত্বের চিন্তাভাবনা ভারতীয় জীবন দর্শনের অংশ। গণতন্ত্রের রক্ষা কেবল আইন দিয়ে হয় না, বরং সাংস্কৃতিক চেতনা এবং সামাজিক মূল্যবোধের মাধ্যমেও হয়। পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণতন্ত্রে জনসচেতনতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। সিস্টেমকে সঠিক দিশা দেখায় সচেতন সমাজ। রাজনীতির চরিত্রও সমাজের চরিত্র দ্বারা নির্ধারিত হয়।

হিন্দুস্থান সমাচার-এর ভূমিকার কথা উল্লেখ করে আম্বেকর বলেন, এই এজেন্সি প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই ভারতীয় ভাষা এবং জাতীয় দৃষ্টিভঙ্গিকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। আজ ১৫টিরও বেশি ভারতীয় ভাষায় সংবাদ পরিষেবা প্রদান করছে। তিনি বলেন, তথ্যের দ্রুত পরিবর্তনশীল যুগে সত্য, সমাজকল্যাণ এবং জাতীয় স্বার্থে নিবেদিত সংবাদ সংস্থাগুলির ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

সংঘের শতবর্ষ উপলক্ষে 'পাঁচ পরিবর্তন'-এর আহ্বানের উল্লেখ করে তিনি সামাজিক সম্প্রীতি, পারিবারিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা, পরিবেশবান্ধব জীবনযাপন, কর্তব্যবোধ এবং সামাজিক সচেতনতার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, ভারতের তরুণ প্রজন্ম গণতন্ত্র এবং রাষ্ট্র গঠনের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জরুরি অবস্থার সময় যুবসমাজ গণতন্ত্র রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল এবং আজও যুবকদের মধ্যে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ইতিবাচক শক্তি দেখা যায়। তিনি বলেন, গণতন্ত্র রক্ষা করা কেবল রাজনৈতিক দলগুলির কাজ নয়, বরং সমগ্র সমাজ, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনগুলিরও দায়িত্ব।

জেপি সেনানীদের সম্মাননা

অনুষ্ঠানে বিহার আন্দোলন এবং জরুরি অবস্থা বিরোধী সংগ্রামের সাথে যুক্ত জেপি সেনানীদের সম্মানিত করা হয়। গণতন্ত্র রক্ষায় এই সেনানীদের অবদানের কথা স্মরণ করে তাঁদের অঙ্গবস্ত্র, স্মারক এবং সম্মানপত্র প্রদান করা হয়। উপস্থিত সকলে তাঁদের অভিনন্দন জানিয়ে তাঁদের সংগ্রামকে নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস বলে অভিহিত করেন।

বিহার আন্দোলন এবং জরুরি অবস্থার ওপর ভিত্তি করে 'যুগবার্তা' ও 'নবোত্থান' পত্রিকার উন্মোচন

বিহার আন্দোলন এবং জরুরি অবস্থার ওপর ভিত্তি করে অনুষ্ঠানে পাক্ষিক পত্রিকা 'যুগবার্তা' এবং মাসিক পত্রিকা 'নবোত্থান' প্রকাশ করা হয়। পত্রিকায় জরুরি অবস্থার দিনগুলির ঘটনা, গণতন্ত্র বাঁচানোর সংগ্রাম, বিহার আন্দোলনের ভূমিকা এবং এর সঙ্গে যুক্ত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অবদান বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এই প্রকাশনা শুধুমাত্র একটি ঐতিহাসিক দলিল নয়, বরং গণতান্ত্রিক চেতনার একটি গুরুত্বপূর্ণ আকর গ্রন্থ। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মকে জরুরি অবস্থার অভিজ্ঞতা এবং গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামের সঙ্গে পরিচিত করাতে এই পত্রিকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌম্যজিৎ




 

 rajesh pande