কিন্নৌরে আচমকা হড়পা বানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, ভেসে গেল বাগান-রাস্তা
শিমলা, ২৪ জুন (হি.স.) : হিমাচল প্রদেশে এখনও দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আনুষ্ঠানিক প্রবেশ না হলেও তার আগেই প্রকৃতির রুদ্ররূপ দেখা গেল জনজাতি অধ্যুষিত কিন্নৌর জেলায়। বুধবার ভোরে কাচরং নালায় আকস্মিক হড়পা বানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভেসে গিয়েছে
কিন্নৌরে আচমকা হড়পা বানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, ভেসে গেল বাগান-রাস্তা


শিমলা, ২৪ জুন (হি.স.) : হিমাচল প্রদেশে এখনও দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আনুষ্ঠানিক প্রবেশ না হলেও তার আগেই প্রকৃতির রুদ্ররূপ দেখা গেল জনজাতি অধ্যুষিত কিন্নৌর জেলায়। বুধবার ভোরে কাচরং নালায় আকস্মিক হড়পা বানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভেসে গিয়েছে আপেলের বাগানের একাংশ, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। তবে এই ঘটনায় কোনও প্রাণহানির খবর মেলেনি।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নীচার ব্লকের নাতপা পাটওয়ার এলাকার কাচরং অঞ্চলে ভোর প্রায় তিনটে নাগাদ মেঘভাঙা বৃষ্টির মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এরপরই কাচরং নালায় আচমকা প্রবল জলোচ্ছ্বাস নামে। পাহাড়ি ঢল, পাথর ও বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষের স্রোতে নিমেষে তছনছ হয়ে যায় বিস্তীর্ণ এলাকা।

হড়পা বানের জেরে একাধিক জায়গায় সংযোগকারী রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও রাস্তা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাগুলি দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নিয়েছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন এলাকার আপেল চাষিরা। কিন্নৌরের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি আপেল উৎপাদন। কাচরং এলাকার বহু আপেল বাগানে বন্যার জল ও ধ্বংসাবশেষ ঢুকে পড়ায় লক্ষাধিক টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত সমীক্ষা শুরু হয়েছে।

প্রশাসন জানিয়েছে, সৌভাগ্যবশত বন্যার স্রোত জনবসতির দিকে ধাবিত না হওয়ায় কোনও প্রাণহানি বা গবাদি পশুর ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি। নইলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত।

উল্লেখ্য, এর মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগেই কিন্নৌরের চোলিং এলাকায় জাতীয় সড়ক-৫-এর উপর নির্মিত একটি লোহার সেতু আচমকা ভেঙে পড়ে। সেই সময় সেতুর উপর থাকা একটি ডাম্পারও শতদ্রু নদীতে তলিয়ে যায়। পরপর দুই প্রাকৃতিক দুর্যোগে উদ্বেগ বেড়েছে পাহাড়ি জেলাজুড়ে।

বর্তমানে প্রশাসন পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে। ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা, পানীয় জলের ব্যবস্থা ও অন্যান্য পরিষেবা দ্রুত স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande