কৃষিক্ষেত্ৰে আয় বৃদ্ধি ছাড়া অসমের দ্রুত উন্নয়ন সম্ভব নয় : মন্ত্রী পীযূষ
গুয়াহাটি, ২৫ জুন (হি.স.) : কৃষিক্ষেত্ৰের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি না হলে অসমের দ্রুত অগ্রগতি ও উন্নয়ন সম্ভব নয়, বলেছেন অসমের কৃষিমন্ত্রী পীযূষ হাজরিকা। মন্ত্রী মনে করেন, কৃষিক্ষেত্রে আরও গবেষণা, সম্প্রসারণমূলক পরিষেবা এবং বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে
মতবিনিময় সভায় বক্তব্য পেশ করছেন কৃষিমন্ত্রী পীযূষ হাজরিকা


গুয়াহাটি, ২৫ জুন (হি.স.) : কৃষিক্ষেত্ৰের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি না হলে অসমের দ্রুত অগ্রগতি ও উন্নয়ন সম্ভব নয়, বলেছেন অসমের কৃষিমন্ত্রী পীযূষ হাজরিকা। মন্ত্রী মনে করেন, কৃষিক্ষেত্রে আরও গবেষণা, সম্প্রসারণমূলক পরিষেবা এবং বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির প্রয়োজন।

আজ বৃহস্পতিবার খানাপাড়ায় অবস্থিত অসম প্রশাসনিক স্টাফ কলেজ-এ অসম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কৃষি বিভাগের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত কৃষি ক্ষেত্র বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য পেশ করছিলেন বিভাগীয় মন্ত্রী পীযূষ হাজরিকা। মন্রীসম বলেন, রাজ্যের ৭০ শতাংশের বেশি মানুষ কৃষির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও অসম এখনও খাদ্যশস্য ও অন্যান্য খাদ্যপণ্যের জন্য ব্যাপকভাবে আমদানির ওপর নির্ভরশীল।

উন্নত কৃষি পদ্ধতি, বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং কৃষি, মৎস্য ও পশুপালন বিভাগের মধ্যে আরও ভালো সমন্বয়ের মাধ্যমে কৃষকদের সহায়তা করার আহ্বান জানান মন্ত্রী হাজরিকা। তিনি বলেন, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকদের জন্য অধিক লাভজনক আয় নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি বিভাগ সহ সকল অংশীদারদের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

উদ্ভাবনের গুরুত্ব তুলে ধরে পীযূষ হাজরিকা নতুন প্রযুক্তি, নতুন পণ্য এবং আধুনিক কৃষি পদ্ধতি নিয়ে গবেষণার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শক্তিশালী গবেষণা সহায়তা ছাড়া টেকসই কৃষি উন্নয়ন সম্ভব নয়।

সেচ ব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে অসমের মাত্র ২৪ শতাংশ কৃষিজমি সেচ সুবিধার আওতায় রয়েছে। অন্যদিকে, মধ্যপ্রদেশে এই হার ৭৫ শতাংশ এবং পঞ্জাবে প্রায় ১০০ শতাংশ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বৃহত্তর অংশগ্রহণ, কৌশলগত পরিকল্পনা এবং গবেষণা কার্যক্রম জোরদারের প্রয়োজন বলে তিনি তাঁর মত প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণে আসাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দীপজ্যোতি রাজখোয়া বলেন, বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক কৃষি কৌশলকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি অসমের কৃষি ক্ষেত্রকে জাতীয় অগ্রাধিকার ও বৈশ্বিক কৃষি প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে গড়ে তুলতে হবে।

সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত অ্যাগ্রিকালচারাল প্রডাকশন কমিশনার অরুণা রাজোরিয়া কৃষি সম্প্রসারণ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা এবং একটি সুদৃঢ় কৃষি পরিবেশ গড়ে তুলে কৃষকদের ক্ষমতায়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

সভায় অন্যদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন নাবার্ড-এর চিফ জেনারেল ম্যানেজার জি রমেশ কুমার, অসম পশুচিকিৎসা ও মৎস্য বিশ্ববিদ্যালয়-এর উপাচার্য ড. নিরঞ্জন কলিতা, জ্যেষ্ঠ কৃষি বিজ্ঞানী, গবেষক, সম্প্রসারণ বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রতিনিধিরা।

সভায় গবেষণা ও সম্প্রসারণ ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা, কৃষকদের সমস্যাগুলির সমাধান এবং কৃষি খাতের উদীয়মান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস




 

 rajesh pande