
কলকাতা, ২৫ জুন (হি.স.): ঝড়ের সঙ্গে শুরু হয়েছে প্রবল বৃষ্টি। ফলে, তারাতলার ভেঙে পড়া গুদামে উদ্ধারকাজ কিছুটা হলেও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদিও বৃষ্টি মাথায় নিয়েই উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন এনডিআরএফ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা। কলকাতার তারাতলায় গুদামঘর বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১১, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে আরও ৬টি দেহ। এখনও উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধারকারী দলের পক্ষ থেকে থেকে জানানো হয়েছে, এখনও পর্যন্ত ১১টি দেহ উদ্ধার হয়েছে। কমপক্ষে ৩০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবারও তারাতলায় উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন জাতীয় এবং রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যেরা। ভিতরে এখনও বেশ কয়েক জন আটকে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। হাইড্রোলিক ক্রেন দিয়ে গুদামের ভেঙে পড়া কাঠামোকে টেনে ধরে রাখা হয়েছে। মৃতেরা হলেন কৃষ্ণ চৌধুরী, রোহিত চৌধুরী, চন্দ্রমা চৌধুরী, রাহুল চৌধুরী, পাপ্পুকুমার রজক, ঘি কুমার, আসগর হুসেন এবং সাহিল সর্দার।
উল্লেখ্য, বুধবার দুপুর ১২.৭ মিনিটে তারাতলায় আচমকাই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে নির্মীয়মাণ গুদামের ছাদ। লোহার কাঠামো, কংক্রিটের স্তূপের নীচে চাপা পড়ে যান অন্তত ৪০ জন শ্রমিক। পুলিশ, দমকলের সঙ্গে রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যেরা উদ্ধারকাজে হাত লাগিয়েছিলেন। পরে রাজ্য সরকারের অনুরোধে ভারতীয় সেনা এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী তাতে যোগ দেয়। একাধিক ক্রেন নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ঘটনাস্থলে। হাইড্রোলিক ক্রেন দিয়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ শুরু হয়, যা এখনও চলছে। এই বিপর্যয়ের তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। পাশাপাশি তারাতলার ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভয়াবহ এই বিপর্যয়ে প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌম্যজিৎ