আম-কাঁঠালের টানে দু'মাস ধরে গ্রামেই ডেরা হাতির, নষ্ট ধানখেত, আতঙ্কে বাসিন্দারা
ঝাড়গ্রাম, ২৭ জুন (হি.স.) : আম-কাঁঠালের মরসুম শেষের মুখেও জঙ্গল ছেড়ে গ্রাম ছাড়তে চাইছে না হাতির দল। ফলের লোভে প্রায় দু''মাস ধরে একই বিট এলাকায় ঘোরাফেরা করছে তারা। কখনও ধানখেত তছনছ করছে, কখনও গভীর রাতে বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা করছে। ফলে ঝাড়গ্রামের
আম-কাঁঠালের টানে দু'মাস ধরে গ্রামেই ডেরা হাতির, নষ্ট ধানখেত, আতঙ্কে বাসিন্দারা


ঝাড়গ্রাম, ২৭ জুন (হি.স.) : আম-কাঁঠালের মরসুম শেষের মুখেও জঙ্গল ছেড়ে গ্রাম ছাড়তে চাইছে না হাতির দল। ফলের লোভে প্রায় দু'মাস ধরে একই বিট এলাকায় ঘোরাফেরা করছে তারা। কখনও ধানখেত তছনছ করছে, কখনও গভীর রাতে বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা করছে। ফলে ঝাড়গ্রামের একাধিক গ্রামে চরম আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বনদফতরের বিরুদ্ধে হাতি তাড়ানো ও ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্রদানে গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

শনিবার বনদফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতে ঝাড়গ্রাম রেঞ্জের পুকুরিয়া বিট এলাকার শিমূলডাঙা গ্রামে দুই থেকে তিনটি হাতির একটি দল ঢুকে চারা ধানের জমিতে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। ধান খাওয়ার পাশাপাশি পায়ে মাড়িয়ে বিস্তীর্ণ ধানতলা নষ্ট করে দেয় তারা। এতে একাধিক কৃষকের বড়সড় ক্ষতি হয়েছে।

বনদফতরের দাবি, পুকুরিয়া বিটের শিমূলডাঙা, আঁধারিশোল, পুকুরিয়া, কুণ্ডলডিহি-সহ সংলগ্ন গ্রামগুলিতে প্রচুর আম ও কাঁঠাল গাছ রয়েছে। সেই ফলের গন্ধেই হাতির দল দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় অবস্থান করছে এবং জঙ্গলে ফিরে যাচ্ছে না।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একই এলাকায় হাতির দল ঘুরে বেড়ালেও বনদফতর কার্যকরভাবে হাতি তাড়ানোর কোনও উদ্যোগ নেয়নি। শুধু রাতেই নয়, দিনের বেলাতেও গ্রামের বাঁশঝাড়, কাজুবাগান এবং বসতবাড়ির আশপাশে হাতিগুলিকে ঘোরাফেরা করতে দেখা যাচ্ছে। ফলে চাষের কাজ থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবনযাপন—সব ক্ষেত্রেই আতঙ্কে রয়েছেন গ্রামের মানুষ।

কৃষকদের আশঙ্কা, এভাবে হাতির আনাগোনা চলতে থাকলে যে কোনও সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, বারবার বনদফতরকে জানানো হলেও পুকুরিয়া বিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত বন আধিকারিকদের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের এখনও সরকারি ক্ষতিপূরণও মেলেনি বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে একই রাতে সাঁকরাইল ব্লকের বরডাঙা বিট এলাকার বড় গহিরা গ্রামেও খাবারের সন্ধানে একটি হাতি ঢুকে পড়ে। একটি মাটির বাড়ির দেওয়াল ভেঙে খাবারের খোঁজ করার চেষ্টা করে হাতিটি। সেই সময় বাড়ির সদস্যরা অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান। ঘটনায় গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

বনদফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, বরডাঙা বিট এলাকাতেও বর্তমানে তিন থেকে চারটি হাতির বিচরণ রয়েছে। তবে বনদফতরের দাবি, হাতির হানায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি হাতির দলকে নিরাপদে জঙ্গলে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও গ্রহণ করা হচ্ছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোপেশ মাহাতো




 

 rajesh pande