
আগরতলা, ২৭ জুন (হি.স.) : ত্রিপুরার অবসরপ্রাপ্ত অসহায় সরকারি কর্মচারীদের জন্য সমাজকল্যাণ ও সমাজ শিক্ষা দফতরের উদ্যোগে কুঞ্জবনে পরিচালিত আবাসিক কেন্দ্র ‘আশ্রয়’ পরিদর্শন করলেন রাজ্যপাল ইন্দ্র সেনা রেড্ডি নাল্লু। শনিবার তিনি আবাসনের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখার পাশাপাশি আবাসিকদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলে তাঁদের জীবনযাত্রা, সুবিধা-অসুবিধা ও মানসিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।
রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের বহু অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী বর্তমানে এই আবাসনে বসবাস করছেন। আর্থিকভাবে অধিকাংশই পেনশনভোগী হলেও পারিবারিক অবহেলা, একাকীত্ব এবং সন্তানদের অনাদরের কারণে জীবনের শেষ অধ্যায়ে তাঁরা আশ্রয় নিয়েছেন এই আবাসনে। কেউ সন্তানদের দ্বারা বাড়ি থেকে বিতাড়িত হয়েছেন, আবার কারও সন্তান চাকরিসূত্রে ভিনরাজ্য বা বিদেশে থাকায় তাঁরা সম্পূর্ণ একা হয়ে পড়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে ‘আশ্রয়’ তাঁদের নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ আবাসস্থল হয়ে উঠেছে।
পরিদর্শনের সময় রাজ্যপাল প্রতিটি আবাসিকের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কথা বলেন এবং তাঁদের অভিজ্ঞতা ও সমস্যার কথা শোনেন। আবাসিকদের অনেকেই ব্যক্তিগত জীবনের নানা বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। কলেজটিলা এলাকার জনৈক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক জানান, তাঁর তিন সন্তান থাকলেও তারা পৈতৃক সম্পত্তি নিজেদের দখলে নিয়ে তাঁকে প্রয়োজনীয় দেখভাল করেনি। বাধ্য হয়েই তিনি ‘আশ্রয়’-এ এসে বসবাস শুরু করেন। তিনি জানান, এই আবাসনের প্রথম আবাসিক হওয়ার সৌভাগ্য তারই হয়েছে।
রাজ্যপাল ইন্দ্র সেনা রেড্ডি নাল্লু বলেন, ‘আশ্রয়’-এর আবাসিকদের দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার। সেই ইচ্ছার প্রতি সম্মান জানিয়েই তিনি তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন। আবাসিকরা কেমন আছেন, কীভাবে দিন কাটাচ্ছেন এবং তাঁদের কোনও প্রয়োজন বা সমস্যা রয়েছে কি না, তা জানতেই এই সফর বলে তিনি জানান।
রাজ্যপালের উপস্থিতিতে আবাসিকদের মধ্যে উৎসাহ ও আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। তাঁরা জানান, দীর্ঘদিনের ইচ্ছা পূরণ হয়েছে। নিজেদের সুখ-দুঃখ, অভাব-অভিযোগ সরাসরি রাজ্যপালের কাছে তুলে ধরতে পেরে তাঁরা সন্তুষ্ট। একই সঙ্গে আবাসনের পরিবেশ, সুযোগ-সুবিধা ও কর্তৃপক্ষের ব্যবহারে তাঁরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁদের মতে, পারিবারিক স্নেহ থেকে বঞ্চিত হলেও ‘আশ্রয়’-এ তাঁরা নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারছেন।
রাজ্যপালের এই সফর আবাসিকদের মানসিকভাবে অনুপ্রাণিত করেছে বলে উপস্থিতদের অভিমত। প্রবীণ নাগরিকদের প্রতি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং তাঁদের কল্যাণে সরকারের উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করার বার্তাই এই পরিদর্শনের মাধ্যমে উঠে এসেছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ