
ধর্মনগর, ২৮ জুন (হি.স.) : বর্ণাঢ্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো ভারতের গণতান্ত্রিক যুব ফেডারেশন (ডিওয়াইএফআই)-এর ধর্মনগর মহকুমা কমিটির মহকুমা সম্মেলন। ফয়জুর রহমান ও হেম গোপাল শর্মা মঞ্চে আয়োজিত এই সম্মেলনে মহকুমার ১৪টি অঞ্চল থেকে প্রায় ২০০ প্রতিনিধি অংশ নেন। সম্মেলন ঘিরে যুব কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।
সংগঠনের ধর্মনগর মহকুমা সভাপতি সানি চন্দ পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। এরপর উপস্থিত প্রতিনিধিরা শহিদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
প্রতিনিধি সম্মেলনের সভাপতিমণ্ডলীতে ছিলেন রামেন্দু গোস্বামী, সানি চন্দ ও উত্তম নাথ। সূচনায় ত্রিপুরা সাংস্কৃতিক সমন্বয় কেন্দ্রের শিল্পীদের পরিবেশিত গণসঙ্গীত সম্মেলনের আবহকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। সভার শুরুতে শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন রাজীব নাথ।
সম্মেলনের উদ্বোধনী ভাষণে ডিওয়াইএফআই-এর রাজ্য কমিটির সদস্য আব্দুল হাফিজ সংগঠনের সাংগঠনিক কাঠামো, বর্তমান রাজনৈতিক-সামাজিক পরিস্থিতি এবং যুব সমাজের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য রাখেন। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের রাজ্য সভাপতি পলাশ ভৌমিক। এছাড়াও রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য বাসুদেব ভট্টাচার্য্য, সান্ত্বনো দেব এবং রাজ্য কমিটির সদস্য বিজয় বিশ্বাস ও রাজীব নাথ বক্তব্য রাখেন।
সাংগঠনিক প্রতিবেদনে গত সময়ের বিভিন্ন আন্দোলন, সাংগঠনিক সম্প্রসারণ, যুব সমাজের সমস্যা এবং ভবিষ্যৎ কর্মসূচির খতিয়ান তুলে ধরেন মহকুমা সম্পাদক অর্জুন নাথ। প্রতিবেদনের ওপর ১৪টি অঞ্চল কমিটির প্রতিনিধিরা আলোচনা করে সংগঠনের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বিভিন্ন মতামত ও প্রস্তাব তুলে ধরেন।
সম্মেলনের প্রস্তুতি কমিটির চেয়ারম্যান অমিতাভ দত্ত তাঁর বক্তব্যে যুব সমাজকে সামাজিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি আগামী প্রজন্মের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ যুব আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর জোর দেন। বাসুদেব ভট্টাচার্য্যও তাঁর বক্তব্যে সংগঠনকে তৃণমূল স্তরে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।
সম্মেলনের শেষ অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে ৪৯ সদস্যবিশিষ্ট নতুন ধর্মনগর মহকুমা কমিটি গঠন করা হয়। নবগঠিত কমিটির প্রথম বৈঠকে জসিম উদ্দিনকে সভাপতি এবং অর্জুন নাথকে পুনরায় সম্পাদক হিসেবে সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত করা হয়।
নবনির্বাচিত নেতৃত্বকে অভিনন্দন জানিয়ে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, নতুন কমিটি আগামী দিনে ধর্মনগর মহকুমায় যুব সমাজের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে আরও সুসংগঠিত ও গতিশীল করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ