
আগরতলা, ২৮ জুন (হি.স.) : আর্থিক অনটনের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করেও জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার ছেলের চিকিৎসা ও পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন সদর মহকুমার কাঞ্চনমালা দাসপাড়া এলাকার দিনমজুর বিশ্বজিৎ দাস। তবে সংসারের সীমিত আয়ে সেই দায়িত্ব পালন ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। এমন পরিস্থিতিতে একমাত্র ভরসা সরকারি দিব্যাঙ্গ ভাতা। কিন্তু বৈধ দিব্যাঙ্গ শংসাপত্র থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে আবেদন করেও এখনও পর্যন্ত সেই ভাতা মেলেনি বলে অভিযোগ পরিবারের।
রবিবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিকাশ দাসের মা মণিদীপা দাস আবেগঘন কণ্ঠে জানান, তাঁদের ছেলে বিকাশ দাস বর্তমানে সপ্তম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। জন্ম থেকেই সে দিব্যাঙ্গ। স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারে না এবং নিয়মিত চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী বিভিন্ন সময়ে চিকিৎসা করাতে হলেও অর্থের অভাবে সবসময় তা সম্ভব হয়ে ওঠে না।
তিনি জানান, তাঁর স্বামী বিশ্বজিৎ দাস দিনমজুরের কাজ করেন। প্রতিদিন কাজ থাকলে তবেই সংসারে আয় হয়, আর কাজ না থাকলে সংসার চালানোই দুষ্কর হয়ে পড়ে। এমন অবস্থায় ছেলের চিকিৎসা, ওষুধ, যাতায়াত এবং পড়াশোনার খরচ বহন করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে। সরকারি দিব্যাঙ্গ ভাতা পেলে সেই অর্থ বিকাশের চিকিৎসা ও শিক্ষার কাজে ব্যয় করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
পরিবারের দাবি, বিকাশের নামে বৈধ দিব্যাঙ্গ শংসাপত্র রয়েছে এবং সরকারি নিয়ম মেনেই একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দফতরে দিব্যাঙ্গ ভাতার জন্য আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হলেও এখনও পর্যন্ত কোনপ ভাতা মঞ্জুর হয়নি। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন দফতরে যোগাযোগ করেও আশানুরূপ ফল মেলেনি বলে অভিযোগ।
মণিদীপা দাস রাজ্য সরকার এবং সমাজ কল্যাণ ও সমাজ শিক্ষা দফতরের কাছে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বিষয়টি বিবেচনার আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, আমরা কোনও বিশেষ সুবিধা চাই না, শুধু আমার ছেলের প্রাপ্য সরকারি ভাতাটুকু চাই। এই সামান্য সাহায্য পেলে ওর চিকিৎসা ও পড়াশোনা চালিয়ে যেতে অনেকটাই সুবিধা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশও মনে করছেন, প্রকৃত সুবিধাভোগীদের দ্রুত সরকারি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় আনা জরুরি। বিশেষ করে গরীব ও দিব্যাঙ্গ শিশুদের ক্ষেত্রে প্রশাসনের আরও সংবেদনশীল হওয়া প্রয়োজন।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ