
ইটানগর, ১৫ জুলাই (হি.স.) : অবিরাম বর্ষণের জেরে অরুণাচল প্রদেশের অন্যতম দুর্গম আন্তৰ্জাতিক সীমান্তবর্তী জেলা কুরুং কুমেইয়ে ভয়াবহ হড়পা বান ও ভূমিধসের সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দার্মু পাসের কাছে সেনাবাহিনীর একটি পোর্টার ক্যাম্প হড়পা বানের জলে ভেসে গেছে।
দার্মু পাস সংলগ্ন তাপা এলাকায় অবস্থিত ওই পোর্টার ক্যাম্পটি ভারত-চীন সীমান্তের সবচেয়ে নিকটবর্তী ও সহজে পৌঁছানো যায় এমন স্থানগুলির একটি। পোলোসাং সার্কলের মিল্লি গ্রামের পরবর্তী এলাকায় অবস্থিত দার্মু পাস একটি দুর্গম উচ্চ পার্বত্য গিরিপথ। মনোরম অ্যালপাইন হ্রদ, তুষারাবৃত পর্বতশৃঙ্গ এবং অক্ষত হিমালয়ী প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য এটি পরিচিত। পাশাপাশি ভারত-তিব্বত সীমান্তের নিকটবর্তী হওয়ায় এই এলাকার কৌশলগত গুরুত্বও অত্যন্ত বেশি।
এদিকে, কুরুং কুমেই জেলায় বন্যা পরিস্থিতি ক্রমশ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। জেলার গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তবর্তী শহর পার্সি পার্লোতে কুমেই নদীর জল টানা বৃষ্টির ফলে বিপদসীমার অনেক উপরে উঠে যাওয়ায় বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। শহরের বড় অংশ, যার মধ্যে রয়েছে ইন্সপেকশন বাংলো, সরকারি স্কুল, নাগরিকদের বাড়িঘর এবং একাধিক আবাসিক কলোনি, বন্যার জলের তলায় চলে গেছে।
বহু গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগকারী একাধিক সড়ক সম্পূর্ণ জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। এছাড়া ভূমিধস ও তীব্র মাটিক্ষয়ের কারণে উপত্যকার গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলিও ভেসে গেছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পার্সি পার্লো থেকে জেলা সদর কোলোরিয়াংয়ের সঙ্গে সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় জেলার একাধিক এলাকা কার্যত যোগাযোগহীন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসন বাসিন্দাদের জন্য সতর্কতা জারি করে বন্যার জলে না নামার এবং সর্বদা সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। টানা বৃষ্টির দরুন নদীগুলির জলস্তর ক্রমাগত বাড়তে থাকায় উদ্ধার ও পুনর্বাসনের কাজও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পাহাড়ি অঞ্চলে রাস্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারকাজ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
চলতি বর্ষায় অরুণাচল প্রদেশের বিভিন্ন জেলায় ধারাবাহিকভাবে বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটছে। কুরুং কুমেইয়ের এই সাম্প্রতিক বিপর্যয় সেই দীর্ঘ তালিকায় নতুন সংযোজন। ইতিমধ্যেই রাজ্যের একাধিক জেলায় রাস্তা, সেতু, সরকারি পরিকাঠামো এবং আবাসিক এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস