
কলকাতা, ১৫ জুলাই (হি. স. ): জাতীয় কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন ব্যাঙ্ক (নাবার্ড)-এর পশ্চিমবঙ্গ আঞ্চলিক কার্যালয়ে আজ ব্যাঙ্কের ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক, দীর্ঘমেয়াদী এবং প্রযুক্তিনির্ভর গ্রামীণ উন্নয়নের প্রতি নাবার্ডের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
অনুষ্ঠানে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক, রাজ্য সরকার, বিভিন্ন ব্যাঙ্ক, সমবায় প্রতিষ্ঠান এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের আঞ্চলিক অধিকর্তা সুধাংশু প্রসাদ এবং বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন স্টেট লেভেল ব্যাংকার্স কমিটি (এসএলবিসি), পশ্চিমবঙ্গ-র আহ্বায়ক বলবীর সিং।
অনুষ্ঠানে প্রারম্ভিক বক্তব্য প্রদান করেন নাবার্ড, পশ্চিমবঙ্গ আঞ্চলিক কার্যালয়ের মুখ্য মহাব্যবস্থাপক পি. কে. ভরদ্বাজ।
অনুষ্ঠানে পি. কে. ভরদ্বাজ কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নের ক্ষেত্রে গত সাড়ে চার দশকে নাবার্ডের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা তুলে ধরেন। পুনর্থায়ন, গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ঋণ-সহায়ক কর্মসূচির মাধ্যমে নাবার্ডের বহুমুখী ভূমিকার উল্লেখ করেন তিনি।আন্তর্জাতিক নারী কৃষক বর্ষ ২০২৬ উপলক্ষে তিনি নারী-নেতৃত্বাধীন স্বনির্ভর গোষ্ঠী-র রূপান্তরমূলক ভূমিকার উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।
এছাড়াও, গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়ন তহবিল, ৪,৬০০টি প্রাথমিক কৃষি ঋণ সমবায় সমিতির কম্পিউটারায়ন, কৃষক উৎপাদক সংগঠন (এফপিও)-র প্রসার, সমবায় প্রতিষ্ঠান ও আঞ্চলিক গ্রামীণ ব্যাঙ্ক (আরআরবি)-র সক্ষমতা বৃদ্ধি, কৃষিক্ষেত্রে ₹১.১৭ লক্ষ কোটি টাকার মোট গ্রাউন্ড লেভেল ক্রেডিট (জিএলসি) অর্জন এবং সম্ভাব্য ঋণ পরিকল্পনা (পিএলপি) ২০২৬–২৭-ং র মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ক্ষেত্রগুলিতে ৩.৯৯ লক্ষ কোটি টাকার ঋণ সম্ভাবনার মূল্যায়নের কথা উল্লেখ করেন। এর মধ্যে কৃষি ও কৃষি-সহায়ক ক্ষেত্রের জন্য সম্ভাব্য ঋণের পরিমাণ ₹১.৩৭ লক্ষ কোটি টাকা।
বিশেষ অতিথির ভাষণে বলবীর সিং ভারতীয় কৃষির স্থিতিশীলতা, কৃষি-সহায়ক কর্মকাণ্ডের প্রসার এবং কৃষিপণ্যের রপ্তানির সম্ভাবনার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি সমবায় প্রতিষ্ঠান, আঞ্চলিক গ্রামীণ ব্যাঙ্ক, ক্ষুদ্রঋণ (মাইক্রোফিনান্স) এবং গ্রামীণ জীবিকায়নে নাবার্ডের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
প্রধান অতিথির ভাষণে সুধাংশু প্রসাদ নাবার্ডকে ৪৫ বছরের গৌরবময় যাত্রার জন্য অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, নাবার্ড আজ দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় উন্নয়নমূলক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। তিনি স্বনির্ভর গোষ্ঠী-ব্যাঙ্ক সংযোগ কর্মসূচি (এসএইচজি-ব্যাঙ্ক লিঙ্কেজ প্রোগ্রাম), কিষাণ ক্রেডিট কার্ড (কেসিসি), গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়ন তহবিল (আরআইডিএফ) এবং কৃষক উৎপাদক সংগঠন (এফপিও)-র মতো উদ্যোগগুলির উল্লেখ করে কৃষিতে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার, মূল্য সংযোজন এবং জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ব্যবস্থার প্রসারের আহ্বান জানান, যাতে ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর লক্ষ্য বাস্তবায়িত হয়।
অনুষ্ঠানে নাবার্ডের বার্ষিক কর্মসম্পাদন সংকলন ২০২৫–২৬ এবং সাফল্যের কাহিনি সংকলন প্রকাশ করা হয়। এছাড়াও, জলাধার উন্নয়ন, আরআইডিএফ এবং এফপিও-সংক্রান্ত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। TRIBES, LREDP, FPO এবং অফ-ফার্ম ডেভেলপমেন্ট উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত মহিলা কৃষকদের সংবর্ধনা জানানো হয়।
একই সঙ্গে পশ্চিম মেদিনীপুর, মালদা ও নদিয়া জেলার ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজাররা তাঁদের জেলার উদ্ভাবনী উদ্যোগ উপস্থাপন করেন।
অনুষ্ঠানে মহিলা কারিগর ও স্বনির্ভর গোষ্ঠীর তৈরি বিভিন্ন পণ্য নিয়ে ছয়টি প্রদর্শনী স্টলও ছিল, যেখানে নারী-নেতৃত্বাধীন গ্রামীণ উদ্যোগের বিকাশে নাবার্ডের প্রতিশ্রুতি প্রতিফলিত হয়।
সরকার, বিভিন্ন ব্যাঙ্ক এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সঙ্গে যৌথভাবে পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / মৌসুমী সেনগুপ্ত